মুভমেন্ট ফর জাস্টিসর পক্ষ থেকে বিএমইউ ভিসির কাছে স্বারকলিপি 

সোমবার (৩০ জুন) ফ্যাসিস্ট মুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য দূরীকরণের দাবী জানিয়ে মুভমেন্ট ফর জাস্টিস পক্ষ থেকে বি এম ইউ ভিসির কাছে স্বারকলিপি লিপি প্রদান করেছেন সংগঠনটি।

মুভমেন্ট ফর জাস্টিসর পক্ষ থেকে বিএমইউ ভিসির কাছে স্বারকলিপি 

সোমবার (৩০ জুন) ফ্যাসিস্ট মুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য দূরীকরণের দাবী জানিয়ে মুভমেন্ট ফর জাস্টিস পক্ষ থেকে বি এম ইউ ভিসির কাছে স্বারকলিপি লিপি প্রদান করেছেন সংগঠনটি। স্মারক লিপিতে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত  শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স কর্মচারীবৃন্দ বিগত ১৫/১৬ বছর ধরে তৎকালীন সরকার ও তার দোসররা আমাদের বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন,নিপিরন ও বঞ্চিত করেছে।

সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমাদেরকে পদায়ন, পদোন্নতি, গ্রেডের উন্নতি করন, ও চাকরি স্থায়ীকরণ না করে সমাজে হেয় করা হয়েছে। রাজনৈতিক মত পার্থক্য থাকায় আমাদের অনেক কে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে , জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে । বিভাগীয় যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও শুধু মাত্র ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের হওয়ার কারণে, বিভাগীয় যোগ্য প্রার্থী বাদ দিয়ে বাহির থেকে নতুন প্রার্থী নিয়োগ দেয়া হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের পত্রও দেওয়া হয়নি। অপরদিকে ফ্যাসিস্ট দোসরদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে শর্ত শিথিল করা হয়েছে। শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র ভিন্ন মতাদর্শের কারণে আমাদের উচ্চ শিক্ষা ( পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন) কার্যক্রম বাধা দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ভাবে। ভর্তি পরীক্ষা বাধা দেওয়া, শিক্ষা ছুটি না দেওয়া, কোর্স চলমান রাখার জন্য পরীক্ষা দিতে না দেওয়া, ইচ্ছাকৃত পরীক্ষায় অকৃতকার্য করা হয়েছে যা কোন ভাবে গ্রহনযোগ্য নয়।

চিকিৎসাসেবা একটি মৌলিক অধিকার।  ইতিহাসের সেরা মূহুর্ত, জুলাই -আগস্ট '২৪ এর আন্দোলনের সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাসিস্টদের দোসর শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা,নার্স, কর্মচারীবৃন্দ সম্মিলিত ভাবে  আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা সেবা বাধা সৃষ্টি করে। তারা সম্মিলিত ভাবে তাসের সৃষ্টি করে ও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সম্পদ ধ্বংস করে।

আমরা গভীরভাবে উদ্দ্যোগের সাথে লক্ষ্য করি যে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন প্রায় এক বছর হওয়া সত্ত্বেও এই বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ফ্যাসিস্টদের দোসররা এখনো অধিষ্ঠিত আছে, যা জুলাই -আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নেই চেতনার পরিপন্থী। তারা স্বারকলিপি উল্লেখ করেন যেহেতু আপনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক, আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীবৃন্দ আপনার সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিম্নলিখিত দাবী সমূহ উল্লেখ করে মুভমেন্ট ফর জাস্টিস আহ্বায়ক ডাঃ মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ও সদস্য সচিব ডাঃ জাফর ইকবাল স্বাক্ষরিত  দাবিদাওয়া গুলো উল্লেখ করেন।

১. বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর কেউ কোন প্রশাসনিক ও একাডেমিক ( ডিন/চেয়ারম্যান/কোর্স ডিরেক্টর/ইমিরেটাস অধ্যাপক) পদে এবং কোন পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকতে পারবেনা এবং কোন পদের জন্য আজীবন নিয়োগ পাবে না। 
২. বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন নিয়োগ ,পদোন্নতি, পরীক্ষা প্রক্রিয়া এবং তদন্ত কমিটিতে ফ্যাসিস্ট সংশ্লিষ্ট কেহ থাকতে পারবেনা। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগ বাণিজ্য, কেনাকাটা দুর্নীতি ও পরীক্ষা প্রশ্নপত্র হাসে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ বাস্তবায়ন করতে হবে। 
৩. বিশ্ববিদ্যালয় সংঘটিত আগুন সন্ত্রাস, ভাঙচুর এবং হত্যাকাণ্ডে মামলার জড়িত বিভিন্ন শিক্ষক চিকিৎসক কর্মকর্তা নার্স কর্মচারীবৃন্দের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করতে হবে। 
৪. ২০০৯  থেকে ২০২৪ এর ৫ ই আগস্ট পূর্বের সকল নিয়োগ পুনঃ তদন্ত সাপেক্ষে বাতিল করতে হবে। এ সংক্রান্ত যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা পূন গঠন করে দৃশ্যমান কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।
৫. এই বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৩ ২০০৬ পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসারগনের ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তির জন্য গেড উন্নতি করুন ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পদোন্নতির জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।এ নিয়ে মোট ১৪টি দাবি দাওয়া নিয়ে  ভিসির কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডাঃ মোহাম্মদ শহিদুল হক, ডাঃ জাফর ইকবাল, ডাঃ মশিউর রহমান, ডাঃ আবু নুর মাসুদ রানা, ডাঃ একে আল মিরাজ, ডাঃ রিয়াদুল জান্নাত, ডাঃ সায়েম রহমান ভূঁইয়া, ডাঃ দেলোয়ার হোসেন, ডাঃ যেবানুন নাহার, ডাঃ নাজিব, ডাঃ মাহমুদ মান্নান, ডাঃ ফারুক ইশতিয়াক, ডাঃ এনামুল হক, ডাঃ জামিলুর রহমান, ডাঃ সাবিনা ইয়াসমিন, ডাঃ ইলিয়াস, ডাঃ শাহিন  খান, ডাঃ রাশেদ হোসেন, ডাঃ কামাল পারভেজ ডালিম, ডাঃ মকবুল হোসেন, ডাঃ নুরুল ইসলাম, ডাঃ মাসুম প্রমুখ।