"মুজিব একটি জাতির রূপকার "চলচ্চিত্রটি বাংলা, বাঙালি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অনন্য দলিল
গতকাল সন্ধ্যে মধুমিতা সিনেমা হলে "মুজিব একটি জাতির রূপকার" ছবিটি দেখলাম।
গতকাল সন্ধ্যে মধুমিতা সিনেমা হলে "মুজিব একটি জাতির রূপকার" ছবিটি দেখলাম। অসাধারণ নির্মাণ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের উপর নির্মিত ছবিটিতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে আরেফীন শুভ দুর্দান্ত করেছেন। এই মহান ব্যাক্তির সংগ্রামী জীবনের কাহিনী চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। বেগম মুজিব ফজিলাতুন নেছার তিন কালের চরিত্রে দীঘি ও পরিণত বয়সে তিশা খুব ভালো করেছেন। তিশার অভিনয় মনে হয়েছে তিনিই বেগম মুজিব।
বেগম মুজিবের মমতাময়ী অভিব্যক্তি তিশার অভিনয়ে অপূর্ণ ছিলো না। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর চরিত্রে তৌকির আহমেদ ছিলেন পারফেক্ট। তাজ উদ্দীন আহমেদ এর চরিত্রে রিয়াজ আহমদের অভিনয় অসাধারণ হয়েছে। খোন্দকার মোশতাকের চরিত্রে ফজলুর রহমান বাবু দারুন করেছেন। একজন বিশ্বাসঘাতকের চোখে মুখে যে কুটিলতার ভাব তা তিনি নিপূণ অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। বঙ্গবন্ধুর মায়ের চরিত্রে দিলারা জামান অসাধারণ করেছেন, বাবার চরিত্রে খায়রুল আলম সবুজ খুব ভালো করেছেন।
বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন, ত্যাগ, জেল, অসাধারণ নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি অধিকার বন্চিত জাতির মাঝে গণ জাগরনের ঢেউ তুলে স্বাধীনতার চুড়ান্ত সোপান মুক্তিযুদ্ধে উপনীত করেছিলেন। তারপর বীর বাঙালির পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে মরনপণ যুদ্ধ। মুজিব নগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে শুভ যাত্রা, শপথ গ্রহণ। তারপর পাক বাহিনীর শোচনীয় আত্মসমর্পন ও বীর বাঙালির বিজয় ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। ১৫ই আগষ্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের ঘাতকদের হাতে মমর্ন্তুদ হত্যা। দীর্ঘ ইতিহাসের ধারাবাহিক উপস্থাপনা সুন্দর ও অনবদ্য হয়েছে।
মহাত্মা গান্ধী ও জিন্নাহর চরিত্রে দুজন ব্যাক্তির অভিনয় ছিলো নিখুত। ভাসানীর চরিত্রে রাইসুল ইসলাম আসাদ বিফল হননি। টিক্কা খানের চরিত্রে জায়েদ খানকে একবারই দেখা গেলেও দুর্দান্ত লেগেছে। নুসরাত ফারিয়া আরো ভালো করতে পারতেন। পাকিস্তানী বাহিনীর অফিসার ও সাধারণ সৈন্যের অভিনয় যারা করেছেন, তাদেরকে পরিপুর্ণ পাক বাহিনীর সদস্য মনে হয়েছে। অবশ্যই ভারতের অভিনয় শিল্পি হলেও অবয়বে পাক বাহিনীর সদস্যের সাথে কোন অমিল ছিলো না। ছবিটি দেখে আবেগে আপ্লুত হয়েছি, কখনো কেঁদেছি, কখনো হেঁসেছি! চিত্রায়ন খুব উন্নত মানের।
ছবির গানগুলো চিরায়ত বাংলার গান। গানগুলো খুব লেগেছে, মন ছুয়েছে। শান্তনু মৈত্রকে সুন্দর গানের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। ছবিটির মেকাপ, সাজ সজ্জা ছিলো পরিপূর্ণ, নিখুত , আধুনিক। নিখুত মেকাপ অভিনয় শিল্পিদের স্বস্ব চরিত্রে পরিপূর্ণ ফুটিয়ে তুলেছে। অপূর্ব নির্মান শৈলী। ছবিটি নির্মাণে পরিচালক , অভিনয় শিল্পি, কলা, কৌশলীদের পেশাদারিত্ব, দরদের ও ছাপ সূস্পষ্ট।
সংলাপ ছিলো চমৎকার। সব মিলিয়ে পুরো টিমের কাজ সুন্দর, গোছালো, পরিশ্রম, চরিত্র ফুটিয়ে তোলার সর্বাত্মক আন্তরিক প্রচেষ্টার কোন কমতি ছিলো না, নিসন্দেহে একথা বলতেই হবে। বঙ্গবন্ধুর মতো মহান নেতার জীবন , অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব, গাম্ভীর্য ও সম্মোহনী শক্তি, একটি জাতির অভ্যুদয়ের কাহিনী সেলুলয়েডের ফিতায় ফুটিয়ে তোলা সহজ বিষয় নয়, এটি মনে রাখতে হবে আমাদের।
সকলের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে বলে আমি মনে করছি। এটি বাংলা, বাঙালি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অনন্য দলিল হয়েই থাকবে। ছবিটি বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের বড় পর্দায় দেখা উচিত। উল্লেখ্য, বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে গতকাল টিকেট পায়নি, মধুমিতা হলে ওই শোতে আমি টিকেট পেলেও আমার পরে যাওয়া অনেকে টিকেট পাননি। হল ছিলো লোকে লোকারণ্য। হাউসফুল।