ধারিয়ারচর হাজী ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় গড়ব আগামীর প্রজন্ম’ স্লোগানকে ধারণ করে অনুষ্ঠিত হলো ধারিয়ারচর হাজী ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় এর বার্ষিক বিজ্ঞান মেলা ২০২২। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ধারিয়ারচর হাজী ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শতাধিক শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান মেলায় তাদের বিভিন্ন প্রকল্প প্রদর্শন করে।
মেলার উদ্বোধন করেন স্কুল কমিটি সভাপতি মোঃ নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিজ্ঞান মনস্ক শিক্ষার্থীদের নতুন উদ্ভাবনীর অবদানে ২০৪১ সালে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নতশীল দেশের সম্মান অর্জন করবে। এই বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করা ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের মেধাকে বিকশিত করতে পারলেই তারা তাদের সৃজনশীল চিন্তা-চেতনার মাধ্যমে দেশকে আরো এগিয়ে নিতে পারবে, এমন আশা প্রকাশ করেন স্কুল কমিটির সভাপতি।
প্রধান অতিথি হিসেবে মেলা পরিদর্শন করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার-ভূমি, কাজী আতিকুর রহমান। এছাড়াও মেলা পরিদর্শন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবু তৌহিদ, অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কসবা এর প্রধান শিক্ষক শফিকুর রহমান, উজানচর কে. এন. উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু তপন চন্দ্র সূত্রধর। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবু পবিত্র মন্ডল।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মাসুদ বিল্লাহ প্রমুখ। প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান সমন্ধে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রধান করেন। এবং এসব আয়োজনে উৎসাহ প্রদান করেন। ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের দৈনন্দিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় স্কুলের বিজ্ঞান মেলার প্রকল্পে তুলে ধরে। যার মধ্যে প্রাণী এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞানের বিভিন্ন উদ্ভাবন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেখানে কম্পিউটার প্রযুক্তি, রসায়ন, পদার্থ এবং জ্যোতির্বিদ্যার ধারনাও তুলে ধরার চেষ্টা করেছে ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা। তবে সবচেয়ে দৃষ্টি নন্দন ও আলোচিত প্রকল্পের মধ্যে ছিল ‘পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা’ ছাত্রদের প্রকল্পটি।
প্রধান শিক্ষক আমেনা বেগম বলেন, পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতায় মাত্রাহীন দূষণের আক্রমণে আমাদের পরিবেশ দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমাদের সুস্থ জীবনযাপনের জন্য আমাদের পরিবেশকে সুস্থ রাখা একান্ত প্রয়োজন। প্রথমত, নিজের এলাকায় আবর্জনা যাতে জমতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখা। যদিবা আবর্জনার স্তুপ জমা হয় সেই আবর্জনাগুলো কে নির্দিষ্ট সময় মতো ফাঁকা স্থানে পুড়িয়ে ফেলা।
দ্বিতীয়ত, কয়লা পোড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা তবে সবচেয়ে দৃষ্টি নন্দন ও আলোচিত প্রকল্পের মধ্যে ছিল। অনুষ্ঠানে আসা বিদ্যালয় অভিভাবক সদস্যরা ছাত্র-ছাত্রীদের এমন বিজ্ঞান মনস্ক ভাবে তৈরী করার জন্য স্কুলের সকল শিক্ষকবৃন্দের ধন্যবাদ জানান। এবং এসব ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের আরো পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাসের কথাও বলেন স্কুল সভাপতি।