দুদকের অনুসন্ধানে সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম এ কাসেম
সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ কাসেমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
# বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ক্রয়ের নামে এম এ কাসেমের প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ।
# রূপগঞ্জে ২৫০ বিঘা নিচু জমি ক্রয়ের মাধ্যমে প্রায় ৪২০ কোটি টাকা লোপাট।
# বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৮ কোটি টাকা নিজেদের মালিকানাধিন সাউথইস্ট ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে রাখা।
# জমি ভরাটের নামে আরও ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া।
সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ কাসেমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তদন্তের জন্য দুদক তিন সদস্যের একটি দল গঠন করেছে। এই দলে রয়েছেন উপপরিচালক আজিজুল হক, সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী মুসা জেবিন এবং সহকারী পরিচালক আল-আমিন। চলতি বছরের ২ জুন এম এ কাসেমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করার নির্দেশনা দিয়ে দুদক থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করা হয়।
পরবর্তীতে, ৩ সেপ্টেম্বর নিজামুল আলম নামের এক ব্যক্তি দুদকে নতুন একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ক্রয়ের নামে এম এ কাসেম প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া অবৈধভাবে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনা, সিটিং অ্যালাউন্স বাবদ অর্থ আত্মসাৎ এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারিতেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এম এ কাসেম একটি সিন্ডিকেট গঠন করে রূপগঞ্জ এলাকায় ২৫০ বিঘা নিচু জমি ক্রয়ের মাধ্যমে প্রায় ৪২০ কোটি টাকা লোপাট করেন। ২০১৪ সালে ৮০ কোটি টাকার জমি ৫০০ কোটিতে ক্রয় দেখিয়ে সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। পাশাপাশি জমি ভরাটের নামে আরও ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির অর্থ থেকেও নয়জন ট্রাস্টি সদস্যের জন্য আটটি রেঞ্জ রোভার ও একটি মার্সিডিজ গাড়ি কেনা হয়, যার মোট মূল্য ২৫ কোটি টাকারও বেশি। এসব গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের খরচও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকেই বহন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত কমিটি গঠন করে সিটিং অ্যালাউন্স নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০৮ কোটি টাকার বেশি অর্থ নিজেদের মালিকানাধীন সাউথইস্ট ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে জমা রাখারও অভিযোগ রয়েছে।
এইসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে এম এ কাসেমের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী নিজামুল আলম।
এসব বিষয় নিয়ে এমএ কাশেমের সাথে মুঠোফোনে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলার জন্য কল করা হয়। তিনি এসব বিষয় ফোনে কি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং তার ব্যক্তিগত সহকারি শামস আদনান আপনের সাথে যোগাযোগ করে তার সাথে সাক্ষাতের জন্য বলেন। পরবর্তীতে শামস আদনানের মুঠোফোনে একাধিকবার কথা হয়। তিনি সাক্ষাত করিয়ে দেবেন বললেও পরে আর কল রিসিভ করেননি। তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।