কক্সবাজারের দক্ষিণ বনবিভাগের শিলখালী রেঞ্জে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব
কক্সবাজারের উখিয়া,টেকনাফে চলছে পাহাড় কাটার হিড়িক।
কক্সবাজারের উখিয়া,টেকনাফে চলছে পাহাড় কাটার হিড়িক। ছোট বড় এসব পাহাড়গুলো বিরামহীন ভাবে কেটে সমতল করে ফেলাতে একদিকে যেমন জীব বৈচিত্রের উপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। কক্সবাজারের দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন শিলখালী, জাহাজপুরা,মাথাভাঙা, বড়ডেইলের স্থানীয় প্রভাবশালীদের প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় পরিবেশ ও বন আইনের তোয়াক্কা না করেই চলছে অবৈধভাবে পাহাড় কাটা এবং দখলের মহোৎসব।এক শ্রেণীর ভূমিদস্যুরা প্রতিদিন এসব পাহাড় দখল করে বিক্রি হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।
পাহাড়গুলো কেটে সমান করে ফেললেও এ বিষয়ে নির্বিকার রয়েছে সংশ্লিষ্ট বনবিভাগের কর্মকর্তারা।পাহাড় কাটা, মাটি পাচার, অবৈধ বালি পাচার, অবৈধ করাত কল, সরকারি বনভুমির জায়গা বিক্রি, অবৈধ স্থাপনা নির্মান, সামাজিক বনায়নের কাঠ পাচার থেকে শুরু করে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি সহযোগিতা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন শিলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সাফিউল ইসলাম।
অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নামে ও লাখ লাখ টাকা মাসোহারা উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন কর্মকর্তা এবং ফরেস্ট গার্ডরা এসব মাসোহারা উত্তোলন করে। ভিলেজার, বনভূমিতে বসবাসকারী, অবৈধ করাত কলের মালিক,ফার্নিসার দোকানি, বোট মালিক, পাহাড় দখলদার থেকে এসব চাঁদাবাজ উত্তোলন করে তারা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যতই বনের দিকে যাই, কাঠ চোর সিন্ডিকেটের লোকজন নির্বিচারে সামাজিক বনায়নের কাঠ নিধনের দৃশ্য দেখা যায়। জানতে চাইলে বলেন, এসব মাসোহারা দিয়ে করছি বলে জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে টেকনাফ উপজেলার জাহাজপুরা, মাথাভাঙা, বড়ডেইল, হাজমপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভূমিদস্যু ও পাহাড় খেকো প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অনেক পাহাড় কেটে সমতল ভুমিতে পরিনত করছে। এবং পাহাড় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাহাড় কাটা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এতে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় কতিপয় দুর্নীতিপরায়ন লোক ফরেষ্ট বিভাগের লোকজনকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই এই অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছে একাধিকসুত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সাফিউল ইসলাম জানান, পাহাড় কাটার বিষয়টি আমাকে এর আগে কেউ জানায়নি।আপনার কাছেই এ ব্যাপারে প্রথম শুনেছি।এ ব্যাপারে আমি দ্রুত খোঁজ খবর নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের শিলখালী রেঞ্জের শিলখালী বনবিটের অধীনে (২০১৯-২০২০ অর্থ বছর) সুফল বনায়নে আগাচা ( জঙ্গল) বাচাই করা হচ্ছে না দীর্ঘ বছর।
ডালপালা ছাটাই না করার (প্রুনিং) কারণে আগাচায় ভরে গেছে বাগান। সুন্দর বনায়নের গাছগুলো স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। শিলখালী, জাহাজ পুরা,মাথাভাঙা,বড়ডেইল এলাকার দৃশ্য এটি। বনায়নে চারা গাছ লাগানোর তিন মাস পর পর বছরে ৪ বার থিনিং করার নিয়ম রয়েছে, সেখাতে বরাদ্দও রয়েছে। কিন্তু তা এখানে হয়নি এবং হচ্ছে না।২০২১-২০২২ অর্থ বছরে বনায়নের জন্য এখনো অনেক স্থানে জঙ্গলও কাটা হয়নি। অথচ অর্থ বছরও শেষ হয়েছে; চারা লাগানো হবে কখন?
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা সাওয়ার আলম জানান,যে কোন ধরনের পাহাড় কাটা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।যা বা যারাই এই অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেবো। শুধু তাই নয়, বনবিভাগের কোন লোকও যদি এই পাহাড় কাটার সাথে জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধেও আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।