৫০টি ইটভাটায় রিজার্ভ উজাড় করা কাঠ পোড়ানো হচ্ছে

লামা বন বিভাগের ধলুছড়ি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ অফিসার ফরেস্টার রেজাউলের দোর্দান্ত অর্থ লিপ্সার কারণে বনজ সম্পদ উজাড় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে।

৫০টি ইটভাটায় রিজার্ভ উজাড় করা কাঠ পোড়ানো হচ্ছে

লামা বন বিভাগের ধলুছড়ি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ অফিসার ফরেস্টার রেজাউলের দোর্দান্ত অর্থ লিপ্সার কারণে বনজ সম্পদ উজাড় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। গত দু’বছরে এই কর্মকর্তা লোভনীয় ৩টি পোস্টিং পাওয়ার কারণে তিনি বনজ সম্পদ সংরক্ষনে বন আইনের প্রতি বৃদ্ধাংগুলী দেখিয়ে ড্যামকেয়ার ভাব প্রদর্শন করে চলছেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, এই রেঞ্জ অফিসারের আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৫০টি ইটভাটা রয়েছে। যেখানে সর্বদায় কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হয়ে থাকে। যে সকল কাঠ পার্শ্ববর্তী চুনতি ও নালবিলা বিট এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কেটে আনা।

ইট ভাটা মালিকদের সাথে ফরেস্টার রেজাউলের সাথে মাসিক একটা মোটা অংকের চুক্তি থাকায় তিনি বিষয়টি ওভারলুক করে থাকেন। মাঝে মধ্যে ২/১টি ব্রিকফিল্ডে তিনি লোক দেখানো অভিযান চালালেও রিজার্ভ থেকে কেটে আনা কাঠ বাদ দিয়ে স্থানীয় ব্যক্তি মালিকানার কেনা কাঠ থেকে সামান্য কিছু জব্দ করে নামমাত্র ২/১টি মামলা দিয়ে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

ইটভাটা মালিকদের রিজার্ভের কাঠ পোড়ানোর সুযোগ দিয়ে তিনি মাসিক প্রায় ২০-২৫ লাখ টাকা সিজনে আয় করে বলেও স্থানীয় সুত্রে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয় ধলুছড়ী রেঞ্জ অফিস সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে আজীজ নগর অভিমুখী যাতায়াতকারী কাঠ ভর্তি ট্রাক/পিকআপ আটকিয়ে চোরাই গাড়ী প্রতি ৫/১০ হাজার টাকা হারে টাকা আদায় করেন বলেও সুত্র জানায়। এ সকল পিকআপ/ কাভার্ড ভ্যান/ ট্রাকে রিজার্ভ থেকে কেটে আনা সহ পাহাড়ী গাছ থাকে। যে গুলি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সংগ্রহ করা চোরাই কাঠ বলেও একাধিক সূত্র জানায়।

দুর্নীতির রেকর্ড সৃষ্টিকারী এই কর্মকর্তা ইতোপূর্বে যে সকল বন বিভাগে কর্মরত ছিলেন প্রতিটি জায়গাই এহেন অনিয়মতান্ত্রিক বন উজাড়ে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখে লাখ লাখ টাকা অবৈধ উপার্জনের সক্ষম হয়েছেন। তিনি ধলুছড়ি রেঞ্জে যোগাযোগদানের পূর্বে একই ডিভিশনের লামা মুখ স্টেশন অফিসার, তুইং রেঞ্জের বিট অফিসারের দায়িত্ব পালনকালীন সীমাহীন অনিয়ম করেও থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গত ২বছরে তিনি লামা বন বিভাগের ৩টি লোভনীয় কর্মস্থলে নিয়োগ পাবার সুবাদে বনজ সম্পদ উজাড়ের সহযোগিতা করে কোটি কোটি টাকা উপার্জনে সক্ষম হয়েছেন বলে এই রেঞ্জে কর্মরত একজন বনকর্মী জানান। তার মতে এই ফরেস্টারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সরেজমিন অনুসন্ধান চালালে বেরিয়ে আসবে আরো অনেক অনিয়মের তথ্য।