মন্ত্রী, সচিব, পিডি মিলে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন ১০০ কোটি টাকা

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে হাওরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পে হরিলুট

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৪ ১৯:৩৬:৩৯  আপডেট :  সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৪ ১৯:৩৯:১৭

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে ১১৮ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা ব্যায়ে বাস্তবায়িত “হাওরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প” শীর্ষক প্রকল্প বিগত ১/৭/২০১৯ তারিখে শুরু হয়ে বদ্ধিত সময়সহ বিগত জুন/২০২৪ এ শেষ হয়।পিডি ছিল- ডা: মো: গোলাম কবির,সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের এলাকার লোক।

প্রকল্পটি দেশের হাওর এলাকার ৭টি জেলার( হবিগঞ্জ,সুনামগঞ্জ, সিলেট,মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও বি-বাড়িয়া) ৫৩টি উপজেলার ৩৩৮টি ইউনিয়নের ৫১,২৭৬টি পরিবার সুফলভোগী হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়। উদ্দেশ্য ছিল- (১) আলোচ্য প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাথাপিছু প্রাণিজ আমিষ গ্রহন এবং খাদ্য ও পুষ্ঠি নিরাপত্তা উন্নয়ন (২) প্রাণিসম্পদ খাতে উন্নয়ন ও  টেকসই প্রযুক্তি সম্প্রসারন (৩)নারীর আত্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তাদের জীবনমান উন্নয়ন।

আলোচ্য প্রকল্পের মাধ্যমে ৭টি প্যাকেজে (ক)সেডসহ  হাঁস পালন-১৭,৯৭৫ জন সুফল ভোগীর প্রত্যেককে ১৫টি করে (১৩+২) হাঁস (খ) সেডসহ  ১৭,৪৮০ জন সুফল ভোগীকে ১৫টি(১৩+২) মোরগ-মুরগী, (গ) ৫,৮৫০ জন সুফল ভোগীকে ছাগল ২টি(১+১), (ঘ)সেড  ৫,৮৬৫ জন সুফল ভোগীকে ভেড়া ২টি(১+১),(ঙ) ৩৩৮০ জন সুফল ভোগীকে ঘাষ চাষের জন জনপ্রতি ১০,০০০/-, (চ) ৫০ জন সুফল ভোগীকে  পনির তৈরীর জন্য জনপ্রতি ২০,০০০/ টাকা এবং (ছ) ৬৭৬ জন ভ্যকসিনেটরকে ৬৯১৫/ টাকা করে প্রদান করা।

প্রকল্পের মাধ্যমে সরবরাহকৃত প্রাণিদের ঔষধ ,টিকা, ভিটামিন ক্রয় বাবদ  কোটি ৮০ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে। বাস্তবে কিছুই কেনা হয়নি বা সুফলভোগীদের দেয়া হয়নি। এছাড়া- খাদ্য ক্রয় বাবদ ৩০ কোটি টাকা,প্রশিক্ষন বাবদ ১১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা( যদিও ৫০% প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়নি।), প্যাকেজ অনুদান- ১১৫ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে। প্যাকেজের মাধ্যমে যে সকল ছাগল-ভেড়া, হাস-মুরগী- সরবরাহ করা হয়েছিল তা এত নিম্নমানের ও রুগ্ন ছিল যে সরবরাহের ২০ দিনের মধ্যে ৭০% মারা যায়। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদার পুনরায় সরবরাহ করেন নি। যা তদন্ত করলে প্রমানতি হবে। ঘাষের জন্য জন প্রতি ১০,০০০/ টাকা কওে প্রদান করা হলেও প্রকল্প এলাকায় কোন ঘাষ লাগানো হয়নি।

কিন্তু ঘর তৈরী বাবদ প্রতিটি ঘরের জন্য ৬,০০০/ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ৩০০০ টাকার ঘর তৈরী করে সরবরাহ দেয়া হয়েছে যা সরবরাহের ৩ মাসের মধ্যে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গিয়েছিল আর বর্তমানে ১টি ঘরও  ব্যবহারের উপযোগী নেই। আলোচ্য প্রকল্পটির টাকা সাবেক মন্ত্রী, সচিব ও পিডি ভাগাভাগি করে আত্নসাৎ করেছে যা সরোজমিনে তদন্ত করলে প্রমানিত হবে।