দেশকে এগিয়ে নেয়ার সকল পরিকল্পনা শুধু বিএনপির আছে: তারেক রহমান

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৯, ২০২৫ ১৯:৫৮:২৮

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণ আমাদের কাছে কথার ফুলঝুড়ি পছন্দ করে না। জনগণ আমাদের কাছে প্রত্যাশা করে, কীভাবে আমরা দেশকে পরিচালনা করব, তাদের সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করব। পুরো পরিকল্পনা জনগণ আমাদের কাছে দেখতে চায়। দেশকে এগিয়ে নেয়ার সকল পরিকল্পনা শুধু বিএনপির আছে, আর কোনো দলের নয়।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটের কেআইবি মিলনায়তন অনুষ্ঠিত বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

শিক্ষা খাতের পরিকল্পনার বিষয়ে তারেক রহমান বলেছেন, ‘স্কুলে কয়েকটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হবে। বাচ্চারা নিজেরাই ঠিক করবে কোন ভাষা শিখবে। ইংরেজির পাশাপাশি আরো একটি ভাষা শিখতে হবে।

দুর্নীতি নিয়ে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি লাখো মানুষের প্রতিদিনের জীবনকে দম বন্ধ করে ফেলেছে।তিনি আরো বলেন, খাবারের দাম কেন বাড়ে, স্কুলে ভালো পড়াশোনা কেন মেলে না, রাস্তায় কেন নিরাপত্তা নেই—সবকিছুর পেছনে সেই একই কারণ, দুর্নীতি।

বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নতুন নয় বলে উল্লেখ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা বহু যুগের আলোচনার বিষয়। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস আমাদের সেই লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, আর মনে করিয়ে দেয় সেই সময়টাও, যখন বাংলাদেশ সত্যিকারের অগ্রগতি করেছিল। আর সেই সময়টা এসেছে মূলত বিএনপির আমলে।’

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানো, পরিচ্ছন্ন সরকারি সেবা আর অর্থনীতিকে মুক্ত করার কাজে হাত দিয়েছিলেন, যা অনিয়ম-ক্ষমতার অপব্যবহার কমিয়ে দিয়েছিল। তারপর প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আধুনিকায়ন শুরু হয়। নতুন ক্রয় নীতিমালা, কঠোর আর্থিক আইন, শক্তিশালী অডিট ব্যবস্থা, আর স্বচ্ছ নজরদারি কার্যকর করা হয়।

তিনি বলেন , সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল ২০০৪ সালে দুদক গঠন। এটি এমন এক স্বাধীন কমিশন, যেখানে সরকার চাইলে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। বিশ্বব্যাংক, এডিবি—সবাই বলেছিল, এটি বাংলাদেশের জবাবদিহির বড় অগ্রগতি। টিআইবির জরিপেও দেখা গেছে, ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। মানুষ নিজেরাই বলেছে, দুর্নীতি কমেছে। এটা কোনো গল্প নয়, এটা তখনকার সংস্কারের প্রমান। এর আগে সকাল ১১ টায় কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির  সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

সভাপতির বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ড. মাহদী আমিন, মীর শাহে আলম, আমিনুল হক, ড. আব্দুল মজিদ, ড. জিয়া উদ্দিন হায়দার, সাইমুম পারভেজ ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডাঃ মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী,  স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, ওলামা দলের সভাপতি কাজী সেলিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মাওলানা কাজী মোঃ আবুল হোসেন, বিএনপি মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবীর খান, মেহেদুল হাসান, আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ স্বেচ্ছাসেবক দল ও উলামা দলের অসংখ্য নেতা কর্মী।