রেজিষ্ট্রেশন সেক্টরকে অস্থিশীল করার জন্য জেলা রেজিস্টার সাব-রেজিস্টারদের নামে উড়ো চিঠি অব্যহত রেখেছেন দুষ্কৃতকারীরা

আইন মন্ত্রণালয়ের অধিনে বেশ কিছু সাবরেজিস্ট্রার, জেলা রেজিস্ট্রার দেরকে বিতর্কিত করার লক্ষে আইন মন্ত্রণালয়ের ভুয়া অভিযোগ পত্র দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুত্রে জানা যায় সম্প্রতি বেশ কিছু সাবরেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে উরো চিঠি দিয়ে যাচ্ছেন একটি কু- চক্র মহল। যে কারণে সেই সকল অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই বলে আইন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আজকের সংবাদ কে জানান। তাঁদের উড়ো চিঠির কারণে সেই সকল কর্মকর্তারা তথ্য সন্ত্রাসের শিকার বলে মনে করেন অনেক কর্মকর্তারা।
পতিত লীগ সরকারের আমলে অবৈধ ক্ষমতার দাপটি ছিলেন যে সকল কর্মকর্তারা তারায় আবারও বেপরোয়া হয়ে দুর্নীতি করার জন্য এই ধরনের উড়ো চিঠি দিয়ে যাচ্ছেন বলে নাম প্রকাশ না করার সর্তে তেজগাঁও রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্স এর একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী রা এই প্রতিবেদককে জানান তারা আরো জানান রেজিস্ট্রেশন বিহিন অনলাইন প্লাটফর্মেও গুজব ছড়াচ্ছেন ঐ সকল কর্মকর্তাদের নামে।
একাধিক সুত্রে জানা যায়, এবার উড়ো চিঠির আতঙ্ক ভর করেছে সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোয়। কিছুদিন ধরে একটি চক্র প্রতিপক্ষ কর্মকর্তাদের শায়েস্তা করতে এমন পথ বেছে নিয়েছে। নানারকম ভিত্তিহীন অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে ধরে একের পর এক বেনামি চিঠি দেওয়া হচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়সহ নিবন্ধন পরিদপ্তরে। এর আগে ঢাকার নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়েও এরকম উড়ো চিঠি দেওয়া হয়ে ছিল।
এদিকে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র প্রতিবেদকে জানায়, সরকারের রাজস্ব উপার্জনের গুরুত্বপূর্ণ এ ডিপার্টমেন্টকে অস্থির করে তুলতে ফ্যাসিস্ট লীগের একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে মাঠে নেমেছে। তারা কিছু চৌকশ কর্মকর্তাকে টার্গেট করে এসব উড়ো চিঠির বয়ান তৈরি করছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাকে বিএনপি ও জামায়াত ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে, প্রথমত তাদের বিরুদ্ধে উড়ো চিঠি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যেসব জেলা রেজিস্ট্রার ও সাবরেজিস্ট্রার বর্তমানে রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টকে গতিশীল করতে রাত-দিন কাজ করছেন, তাদেরও টার্গেট করা হয়েছে। অপরদিকে পেশাগত পূর্বশত্রুতাও এখানে কাজ করছে।
সূত্র জানায়, এসব উড়ো চিঠির পেছনে মূল ইন্ধনদাতা রেজিস্ট্রেশন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা। যারা আওয়ামী লীগ আমলে রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টে ক্ষমতার ছড়ি ঘুরিয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন দলীয় ক্যাডারের মতো। বদলি বাণিজ্য করে যাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কারণে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। তাদের দুর্নীতি অন্য দিকে প্রভাবিত করার জন্য এধরণের ভুয়া উড়ো চিঠি অব্যহত রেখেছেন তারা।দুনীতিবাজ কর্মকর্তারা তাদের একজন দুদকের সাবেক এক কমিশনারকে দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে সবকিছু থামিয়ে রেখেছিলেন। ওই কমিশনার তার নিজ এলাকার হওয়ায় তিনি ওই সময় পার পেয়ে যান। তবে বর্তমানে ওই জেলা রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। যে কারণে বেপরোয়া হয়ে মিথ্যা চার করে যাচ্ছে তার।
এছাড়া কর্মরতদের মধ্যে বর্ণচোরা হিসাবে পরিচিত বেশ কয়েকজন আওয়ামী দোসর জেলা রেজিস্ট্রার ও সাবরেজিস্ট্রার এসব উড়ো চিঠির নেপথ্যে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। তারা একসঙ্গে তিনটি উদ্দেশ্য সামনে রেখে এসব করছেন। প্রথমত, আওয়ামীবিরোধী হিসাবে যারা শক্তভাবে রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের ফ্রন্টলাইন ভেঙে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, গণ-অভ্যুত্থানের শক্তির পক্ষে থাকা এসব প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে হেনস্তা করে রেজিস্ট্রেশন বিভাগের গতি থামিয়ে দেওয়া। এ সুযোগে চক্রটি ভিন্নপথে অন্তর্বর্তী সরকার অথবা এনসিপি সমর্থক নাম দিয়ে মূলত আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসন করবে। তৃতীয়ত, এভাবে ‘উড়ো চিটি কর্মসূচি’ সফলতার মুখ দেখলে তারা সদলবলে ধীরে ধীরে পুরো সেক্টরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
সুত্রে আরও জানা যায়, আওয়ামী লীগ আমলে পেশাদার কর্মকর্তাদের অনেককে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি ট্যাগ দিয়ে দফায় দফায় হয়রানিমূলক বদলি করা হয়। এমনকি লন্ডন কানেকশনের অভিযোগ এনে কোনো একজন সাবরেজিস্ট্রারকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কোনোমতে তিনি চাকরি ঠেকাতে পারলেও তাকে ঢাকার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যদিও তখন তেজগাঁও কমপ্লেক্সে সাবরেজিস্ট্রার হিসাবে চাকরি করার সময় তিনি সেবাপ্রার্থীদের কাছে সমাদৃত ছিলেন। এখন উড়ো চিঠি কর্মসূচির আওতায় চক্রটি সেই কর্মকর্তাকে সবার আগে টার্গেট করেছে।
ইতোমধ্যে অর্থ বিনিয়োগের গোপন ফরমুলা কাজে লাগিয়ে তেজগাঁও কমপ্লেক্সে কর্মচারী পর্যায়ে চক্রটি আওয়ামী দোসরদের একটি অংশকে পুনর্বাসন করতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকে বশ করে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত কিছু দলিল লেখক, নকলনবিশ ও উমেদারদের অনেককে নির্বিঘ্নে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে।এছাড়াও মিথ্যা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ ছিল ভরি ভরি। এ তালিকায় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীও রয়েছে।তারা এখন ভোল পাল্টে বিএনপি পন্থা দাবি করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেদারসে তেজগাঁও রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্স। অথচ ৫ আগস্টের পর তাদের অনেকে পলাতক ছিলেন। গণপিটুনির ভয়ে তারা তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের আশপাশে আসার সাহস পর্যন্ত করেনি। অথচ তারাই ছিল আওয়ামী জমনায় রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের বড় আতঙ্ক।
উল্লেখিত বিভিন্ন সাবরেজিস্ট্রার, জেলা রেজিস্ট্রার দের বিরুদ্ধে ভুয়া উড়ো চিঠির বিষয়ে মহা-পরিদর্শক (আইজিআর) ও অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) আইন মন্ত্রণালয় এর মোবাইলে ফোন দিয়ে তাঁর মতামত জানতে চাইলে তারা এই প্রতিবেদককে বলেন উড়ো চিঠির বিষয়ে আমারা তদন্ত করে অভিযোগের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নী।
