রাজধানির মোহাম্মদপুরে ছোট ভাইয়ের সম্পত্তি দখল নিতে মরিয়া বড় ভাই

আমেনা ইসলাম
আমেনা ইসলাম
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২৫ ১৮:৫৮:২৭

রাজধানির মোহাম্মদপুর এলাকায় ছোট ভাইয়ের সম্মত্তি দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে  বড় ভাই নাসির উদ্দিন মামুন (৫৭)র বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে উঠে আসে বড় ভাই নাসির উদ্দিন মামুন তারই আপন ছোট ভাই  তারেক রানা (৪১)র জমি, টাকা এবং পারিবারিক সম্পদ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে  বড় ভাই ও তার সিন্ডিকেটসহ ভয়ংকর কৌশল অবলম্বন করছেন।

নাসির উদ্দিন মামুনের এ নোংরা পরিকল্পনা শুধু আইনের চোখে অপরাধ নয়,  মানবিকতার সব সীমা পেরিয়ে গেছেন তিনি। দীর্ঘ দিন তারেক রানা বিদেশে অবস্থান করায় পরিবারের জটিল মারপ্যাচ সম্পর্কে কোন ধারনাই ছিলোনা তার। বড় ভাইয়ের পাতানো ফাদে খুব সহজেই পা দেন তিনি। বিদেশে থাকায় বড় ভাইসহ তার পুরো পরিবারের লোলুপ দৃষ্টি পরে তারেকের সম্পত্তির উপর।

প্রথমে ছোট ভাইকে পরপর দুটি বিয়ে করানো হয়। সহজ সরল তারেক পরিস্থিতি বুঝে উঠার আগেই বড় ভাই নাসির উদ্দিন  মামুন ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সংগে গোপন সম্পর্কের ফাদ পাতেন, গোপন সম্পর্ক যখন ওপেন হয়ে যায় তখন স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য হন তারেক। লজ্জায় আত্বসম্মানের ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে ফেলেন তারেক। তাকে পাগল বানাতে মরিয়া হয়ে ওঠে বড় ভাই ও তার সিন্ডিকেট।

নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি সবসময় বাসায় থাকার চেষ্টা করেন। বাসার বাহিরে বের হলে  তার পেছনে সন্ত্রাসী লাগিয়ে তাদের দিয়ে হেনস্থা করেন। বড় ভাই ও তার সিন্ডিকেট মিলে ছোট ভাইকে মেরে ফেলার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হয়। দিশেহারা তারেক মাসুদ মানষিক যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে যান, কিন্ত সেখানেও বড় ভাইর নির্দেশে ৮/১০ জন সন্ত্রাসী হোটেলের রুমে গিয়ে তাকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করে এবং হুমকি দিয়ে বলে “সম্পত্তি লিখে না দিলে তোর মেয়েকে জানে মেরে ফেলে সমুদ্র ভাসিয়ে দিব”। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের সহযোগিতা চাইলে সহযোগিতা না পেয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে যান।যাদের জন্য বিদেশে গিয়ে শ্রম দিয়েছেন তাদের এমন ভয়ংকর প্রতারনায় তিনি অসহায় হয়ে পরেন। এক সময় তিনি ঘর ছেড়ে মানবেতর জীবনযাপন করে থাকেন।

সমাজের চোখে তাকে পাগল সাব্যস্ত করতে তারই টাকায় যারা সম্পদ গড়েছেন তারা মরিয়া হয়ে ওঠে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ওরা আমার সংসার সব শেষ করে দিয়েছে, আমাকে উন্মাদ বানাতে প্রতিনিয়ত কালা যাদু করছে। আমাকে জানে মেরে ফেলতে সব সময় লোক লাগিয়ে রেখেছে”।মোহাম্মদ তারেক রানা আরো জানায়, প্রায়ই গভীর রাতে পাচ ছয় জন অচেনা লোক দেশীয় অস্র  নিয়ে বাসার সামনে ঘোরাফেরা করে। তারেক রানা ট্রিপল নাইনে কল করে সাহায্য চায়, এবং  পুলিশ আসার আগেই তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। যার ভিডিও ফুটেজ আজকের সংবাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।

সর্বশেষ ১৬/১/২০২৫ তারিখে রাতে জোড়পূর্বক কিছু লোক তার ঘরে প্রবেশ করে পিস্তল উচিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করে। আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় তিন লক্ষ টাকা নিয়ে চলে যায়। যাবার সময় হুমকি দিয়ে বলে, কোন আইনি ব্যবস্থা নিলে বা কাউকে জানালে জানে মেরে ফেলবে। এতে তিনি  আদাবর থানায় সহযোগীতা চাইলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলেন “আপনার কোন ক্ষতি হলে আমাদের জানাবেন” উপায়ন্তর না পেয়ে নিম্ন আদালতে দন্ডবিধি ১৮৬০সালের৪২০/৩২৩/৩২৫/৩৮০/৩৮৬/৫০৬/৩৪ ধারায়  বড় ভাই নাসির উদ্দিন মামুন ও তার সিন্ডিকেটসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।আজকের সংবাদ থেকে  নাসির উদ্দিন মামুনের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।