ফ্যাসিবাদের দোসর সিএফ বিপুল, ডিএফও বেলাল, ফরেস্টার জুলফিকার ও মোজাম্মেল এখনও বহাল তবিয়তে

দেশের সর্ববৃহৎ বন অপরাধের ৫টি মামলা বাদীর অসহযোগীতায় খারিজ হলেও দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন বিভাগীয় ব্যবস্থা

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: নভেম্বর ৯, ২০২৫ ২২:২৬:৪৫  আপডেট :  নভেম্বর ৯, ২০২৫ ২২:৪১:২৯

লামা বন বিভাগের তৈন রেঞ্জের গত এপ্রিল, ২০২৪ সালে সর্বকালের সর্ববৃহৎ বন অপরাধের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর তৎকালীন সিএফ বিপুল কৃষ্ণ দাশ, ডিএফও মোঃ আরিফুল হক বেলাল, ফরেস্টার জুলফিকার ও মোজাম্মেল সমন্নয়ে প্রায় ১৮০০ সেগুন গাছ লামার সংরক্ষিত বন থেকে পাচার করা হয়। যার তৎকালীন বাজার মূল্য ছিল প্রায় ১১০ কোটি টাকা। এই চোরাই কাঠ বিক্রয়লব্দ টাকা ফ্যাসিবাদের দোসর সিএফ বিপুল, ডিএফও মোঃ আরিফুল হক বেলাল, ফরেস্টার জুলফিকার ও মোজাম্মেল আনুপাতিক হারে ভাগাভাগি করে নেন। পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু নিম্নমানের কাঠ সংগ্রহ করে তা জব্দ দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তা ফরেস্টার খান জুলফিকার ও বিট কর্মকর্তা মোজাম্মেলকে বাদী করে বান্দরবান চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধীন বন আদালতে ৫টি ১১/২০২৪, ১২/২০২৪, ১৩/২০২৪, ১৪/২০২৪, ১৫/২০২৪ সিআর বন মামলা দায়ের করা হয়।

এই বন অপরাধ সংগঠনের জন্য প্রায় আড়াই কিলোমিটার পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ করে সেখানকার জীববৈচিত্র ধ্বংস করা হয়। ফলে লামা বন বিভাগের রিজার্ভ ফরেস্ট উজাড় হয়ে এক প্রকার মরুভূমিতে রুপান্তর হয়। তাদের এই কাজের সহযোগী ছিলেন ফারুক আহমেদ বেচু নামের স্থানীয় কাঠ পাচারকারী চক্রের এক নেতা। এই বেচু তার দলবল নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ১৮০০ সেগুন গাছ কর্তন, খণ্ডন করা, সাইজ করা, ট্রাকে করে পরিবহন ও বিক্রি করেন। এই অপরাধে ফরেস্টার জুলফিকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সহ সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও সংশ্লিস্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষদের ম্যানেজ করে সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার সহ ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দিয়ে আবারো তাকে লোভনিয় টাংগাইল বন বিভাগে বদলী করা হয়েছে।

উল্লেখিত বন কর্মকর্তাগন এই অপরাধ থেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য সকল দায়-দায়িত্ব বেচুর উপর চাপিয়ে ফরেস্টার খান জুলফিকার ও মোজাম্মেলকে বাদী বানিয়ে এই ৫টি বন মামলা লামা আদালতে দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর থেকে বাদীদ্বয় আদালত কার্যক্রমে অসহযোগিতা ও অনুপস্থিতির কারণে মামলা গুলো খারিজ হয়ে যায়। ফলে সরকারের ১১০ কোটি টাকার কাঠ বেমালুম গায়েব হয়ে যায়। উল্লেখ্য আদালতের মামলায় বাদীদ্বয় পূর্ণ অসহযোগিতা/অনুপস্থিতির কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোন বিভাগীয় ব্যবস্থা এ পর্যন্ত নেয়া হয়নি।

উল্লেখ্য আসামি ফারুক হোসেন বেচুর সাথে আতাত করে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে মামলার স্বাক্ষী না দেওয়ার ব্যাপারে স্বাক্ষী ও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের সাথে চুক্তি হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বাদীগন মামলা সমূহে স্বাক্ষী না দেওয়ায় মামলা গুলো খারিজ করে দেন বিজ্ঞ আদালত। মজার বিষয় যে, আসামীর নামে যে ৫ টি বন মামলা দায়ের করা হয়, তার কোনটাতেই বাদীগন কেউই স্বাক্ষী দেইনি। এ থেকে বোঝাই যায় বাদী ও আসামির সাথে যোগসাজশে সু-কৌশলে সংরক্ষিত বনের গাছ পাচার করে নামে মাত্র বন মামলা দাখিল করা হয়। এ ছাড়া বন মামলায় বাদীগন স্বাক্ষী না দেওয়ার কারনে রাষ্ট্র পক্ষের যে এত বড় ক্ষতি হয়েছে, এর জন্য কর্তৃপক্ষ মামলার বাদীগনের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। ৫ টি বন মামলার একটিতেও স্বাক্ষী না দেওয়ায় জন মনে প্রশ্ন উঠেছে যে এটা কি করে সম্ভব? এ থেকে বোঝাই যায় মামলার বাদীগনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে রিজার্ভ ফরেস্টের ভেতরে রাস্তা নির্মান ও প্রায় ১৮০০ গাছ কর্তন পূর্বক পাচার করে দেয়া হয়েছে।