নির্বাচন বিলম্বিত করে ক্ষমতার স্বাদ নিতে চায় কিছু দল: হাফিজ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম অভিযোগ করেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল সরাসরি নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা না থাকায় নির্বাচন বিলম্বিত করে ক্ষমতার স্বাদ নিতে চাইছে। তিনি বলেন, এসব দল প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যাংকগুলোতে নিজেদের লোক বসিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সুযোগ ভোগ করছে, যা গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার বিরোধী।
শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর তোপখানা রোডে বিএমএ ভবনের অডিটোরিয়ামে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যদের মধ্যে অনেকেই ৫ আগস্টের আন্দোলনে কোনো ভূমিকা রাখেননি। যোগাযোগের কারণে তারা সরকারে এসেছেন। প্রথম দিকে তাদের ধারণা ছিল শেখ হাসিনার সরকারের বাকি মেয়াদ পূর্ণ করা উচিত।”
বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, “এই সরকার এখন নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত। জনগণের মুক্তি বা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো রূপরেখা তারা দেয়নি। বরং নানা বিলাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এয়ার কন্ডিশন গাড়ি, বিদ্যুৎ বিল ছাড়া সুযোগ-সুবিধা পেয়ে তারা এখন আর জনগণের কথা ভাবছেন না।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের স্বাধীন ভোটাধিকারের পরিবর্তে কিছু দল নতুন ফর্মুলা দিতে চাইছে। প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পি.আর.) পদ্ধতি বা গণভোটের কথা বলা হচ্ছে— যা জনগণ বোঝে না এবং এতে তাদের স্বাধীন ভোটাধিকার খর্ব হবে।”
হাফিজ উদ্দিন বলেন, “গণভোটের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। জনগণকে বলা হচ্ছে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলো— এতে তাদের স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ সীমিত হয়। বিএনপি, জুলাই সমাজসহ আমরা সবাই একটি সনদে স্বাক্ষর করেছি যে, নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে আমরা সেই সনদ বাস্তবায়ন করব। তাহলে আবার গণভোটের প্রয়োজন কোথায়?”
তিনি মনে করেন, সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসে ২৮ দফা বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে একটি ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করলে সেটিই ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের যৌক্তিক পরিণতি হতো।
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যারা এখন সংস্কার প্রস্তাব দিচ্ছেন, তাদের অনেকে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত। তাদের জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।”
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, “আমরা চাই একটি সঠিক, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। জনগণ যদি বাধাহীনভাবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে, ইনশাআল্লাহ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ হারুন আল রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অধ্যাপক ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার। আরো বক্তব্য রাখেন, ড্যাবের মহাসচিব ডাঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল, সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ আবুল কেনান, সহ সভাপতি ডাঃ সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক ডাঃ মোস্তাক রহিম স্বপন, বিএনপি'র সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও ড্যাবের সহ সভাপতি ডাঃ পারভেজ রেজা কাঁকন, অধ্যাপক ডাঃ পরিমল চন্দ্র মল্লিক, অধ্যাপক ডাঃ শহিদুর রহমান, ডাঃ শেখ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ডাঃ রোস্তম আলী মধু, ডাঃ এরফানুল হক সিদ্দিক, ডাঃ জাফর ইকবাল,ন্যাবের সভানেত্রী বিলকিস জাহান চৌধুরী, এম-ট্যাবের সভাপতি এ কে মুসা লিটন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডাঃ আদনান হাসান মাসুদ, ডাঃ আবু নাসের, ডাঃ জাহিদুল কবির, ,ডাঃ ফরহাদ হাসান চৌধুরী, ডাঃ গালিব হাসান প্রিতম, ডাঃ সায়েম মনোয়ার, ডাঃ আরাফাত রহমান পাভেল,ডাঃ রাকিবুল ইসলাম আকাশ, ডাঃ আমিরুল ইসলাম পাভেল, ডাঃ রেদওয়ান ফেরদৌস,ডাঃ আবু নূর মো মাসুদ রানা, ডাঃ শফিকুল ইসলাম শফিক , ডাঃ উমর ফারুক, ডাঃ দেলোয়ার হোসেন টিটু, আকরাম আলী, দবির উদ্দিন খান তুষারসহ ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডাঃ মেহেদী হাসান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ খালেকুজ্জামান দিপু।
