নিজের অপরাধ ঢাকতে জেলার ফারজানার পথের কাটা ৬ জন কারারক্ষীকে বদলি
জেলার ফারজানার সকল অপকর্মের সাক্ষী হওয়ায় নিজের অপকর্ম আড়াল করতে এবং পথের কাটা পরিষ্কার করার লক্ষ্যে উপর মহলকে ম্যানেজ করে ৬ জন কারারক্ষী মোছা.আলেয়া চৌধুরীকে (কারারক্ষী নং-১১৭৮১) কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে লক্ষীপুর জেলা কারাগারে,শাম্মী আক্তারকে (কারারক্ষী নং-৪১৯৯৯) সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে,মোছা.সোহেলা আক্তারকে (কারারক্ষী নং-১২৫২২) ঝালকাঠি জেলা কারাগার,সেলিনা আক্তারকে (কারারক্ষী নং-১৩২৪৭) শেরপুর জেলা কারাগারে,ঝর্ণা আক্তারকে (কারারক্ষী নং-১৩৫৭১) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারে এবং লাকী খাতুনকে (কারারক্ষী নং-১৩৭০১) কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে বদলি করান জেলার ফারজানা।
ঘটনায় সঙ্গে জড়িত না থেকেই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করে কারারক্ষী সোহেলা, শাম্মী, সেলিনা ও ঝর্ণাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসিয়ে দিয়ে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বদলি করে ঘটনায় আসল রহস্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন জেলার ফারজানা। সূত্র বলছে,জেলার ফারহানা, ডিআইজি ফজলুর হক ও আইজি আনিসুলকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ৬ জন নিরপরাধ কারারক্ষীর বদলির করান। জানা যায়,চলতি বছরের ১৯ জুন দিবাগত রাত ৫ টায় হাজতী লায়লার উপর অমানুষিক নির্যাতনের সাথে জড়িত না থাকালেও ওই নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং নিজের পথের কাটাকে সরিয়ে দিতেই নিঃঅপরাধ ৪ জনকে ঘটনায় জড়িত দেখিয়ে বদলি করান জেলার ফারজানা।
অনুসন্ধান বলছে শাম্মী আক্তার ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি ১ জুন থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত প্রিজন পাবলিক স্কুলের ডিউটিতে ছিলেন। সোহেলা আক্তার ১৭-১৮ জুন ছুটিতে ছিলেন। ১৯ জুন দিবাগত ভোররাতের ঘটনা ঘটার অনেক পরে সেলিনা আক্তার ও ঝর্ণা আক্তার বেলা ১২ টা ১০ মিনিটে ডিউটিতে যোগাদান করেন। হাজতী রুনা লায়লা নির্যাতনের মাস্টার মাইন্ড ছিলেন ফারজানা : রুনা লায়লার নির্যাতনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দুইজনের সঙ্গে কথা হয় অনুসন্ধানী টিমের তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, আসামী রুনাকে জেলার ফারহানা সিআইডি সাদিয়া ও মেট্রন ফাতেমা ও ইনচার্জ নাসিমা কয়েদি পাপিয়া ও তার দেহরক্ষীরা মিলে ক্যাশ টেবিলে নিয়ে ১৮-১৯ জুন দুই দিন জেলার ফারহানার নেতৃত্বে লাঠি দিয়ে বুকে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করা হয়।
পরে লায়লাকে উলঙ্গ করে বেধড়ক পিটিয়ে ক্ষতস্থানে ও গোপনাঙ্গে মরিচ লাগিয়ে দেয় তারা। হাজতী রুনা লায়লার নির্যাতনের সংবাদ পরিবারের কাছে পৌঁছে গেলে, লায়লার ভাই আবদুল করিম ২৩ জুন বোনের সাথে দেখা করতে আসেন। সেসময় ডেপুটি জেলার জান্নাতুল তাইয়েবা ও মহিলা রক্ষী আলেয়া চৌধুরী করিমের সাথে অস্বাচারণ করেন এবং অন্য এক আসামীকে লায়লা সাজিয়ে টেলিফোনে কথা বলান কিন্তু টেলিফোনের অপর প্রান্ত থাকা লায়লার ভাই করিম কন্ঠটি রুনা লায়লার না নিশ্চিত হলে,তার মনে সন্দেহর দানা বাধে এবং বোনের উপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত হন।
করিমের মনের ভিতর লেগে থাকা খটকা দূর করতে পরের দিন গাজীপুর জেলা প্রশাসক বরাবর বোনকে কারাগারে নির্যাতনের কথা উল্লেখ অভিযোগ দায়ের করা হয়।এ ঘটনা দুই দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং ঘটনার সত্যতা খঁজে পাই তদন্ত কমিটি। জেলার ফারহানা নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন যেভাবে: শিক্ষানবীশ আইনজীবী রুনা লায়লার মারধরের ঘটনা ধামাচাপা দিতে হাজতী যুবলীগ নেত্রী পাপিয়ার কাছে ২ কোটি টাকা দাবী করেন ফারজানা। যা পরবর্তীতে জেলার ফারজানার সাথে ৫০ লাখ টাকায় দফারফা করে পাপিয়া।
এরমধ্যে হাজতিকে নির্যাতনের অপরাধে ৪ জুন (সোমবার) গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে থেকে শামীমা নুর পাপিয়াকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ হয়। কাশিমপুর কারাগার ছেড়ে যাওয়ার সময় জেলার ফারজানাকে উদ্দেশ্যে পাপিয়া চিৎকার বলতে থাকে ৫০ লাখ টাকা আপনাকে দিয়েছি, তারপর কেন? আমাকে চালান দিচ্ছেন। উপস্থিত জেলার ফারহানা ওই সময় বলেছিলেন আপনি এখন যান,জেলখানা শান্ত হলে আবার আপনাকে (পাপিয়াকে) নিয়ে আসব।