চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতি রেঞ্জে শতবর্ষী মাদারট্রি গর্জনসহ বিভিন্ন বনজ ও ফলজ গাছ উজাড়
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন বরইতলী বনবিট কর্মকর্তা ও হেডম্যানদের যোগসাজশে শতবর্ষী মাদারট্রি গর্জনসহ বিভিন্ন বনজ ও ফলজ গাছ কর্তন করে উজাড় করা হচ্ছে বন। এমনকি, বনবিট কর্মকর্তাকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে প্রতিনিয়ত পাহাড় কেটে তৈরি করা হচ্ছে পাকা ও আধা পাকা ঘর। যার কারণে ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য ও হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।
সরেজমিন দেখা যায়, বনবিট কার্যালয় লাগোয়া বরইতলী ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া পূর্বকোল ভিলিজারপাড়া এলাকায় কর্তনকৃত একাধিক মাদাট্রি গর্জন গাছের নিচের অংশ মুতা (শেখড়) দেখতে পাওয়া যায়। এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাতের অন্ধকারে বনবিট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও যোগসাজশে এ গাছগুলো কাটা হচ্ছে বলে জানান তারা।
পরে গাছ কর্তনের ব্যাপারে জানতে বরইতলী বনবিট কর্মকর্তা হাসানুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বিষয়টি রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ উর্দ্বোতন কর্মকর্তারা অবগত আছেন। চুনতি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা ফরেস্টার আব্দুর রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বনজ ও ফলজ গাছ সব সময় কাটা হয়ে থাকে পাশাপাশি পাহাড় কেটে ঘর তৈরীর ক্ষেত্রেও স্থানীয় বন কর্মকর্তাদেরও ম্যানেজ করা হয়ে থাকে।
বিষয়টি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও এসিএফ মহোদয় অবগত আছেন। পত্রিকায় লিখে আমার কিছু করতে পারবেন না। সরেজমিনে দেখা গেছে, বনভূমিতে সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীরা স্থায়ীভাবে দখলে নিয়েছে। তাদেরকে উচ্ছেদ ও করা হচ্ছেনা। তবে, সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের দাবী বনবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই তারা বনভূমি দখলে রেখেছেন। এছাড়াও বনবিট কর্মকর্তা ও রেঞ্জ অফিসারকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে বনভূমিতে পাকা ও আধা পাকা বাড়ি-ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।