২ বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর শত কোটি টাকার দেন দরবার
আগামী ৩১ ডিসেম্বর পিআরএলকে সামনে রেখে দুর্নীতিতে রেকর্ড সৃষ্টিকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সাইফুর রহমান আরো ২ বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে দিবারাত্রি দেন দরবার চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তিনি ২ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন বলে অধঃস্থনদের সাথে ব্ল্যাকমেল করে যা পারেন দু’হাতে হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি ভার্চুয়াল মিটিংয়ে তিনি ৬৪ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দিয়েছেন সকল প্রকার টেন্ডার ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ করার জন্য তা না হলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে তিনি তহবিল বরাদ্দ দিতে পারবেন না বলেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে ইতিমধ্যে শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। তার এ মুহূর্তে টাকার দরকার। তিনি আগামী ২ বছরে সবাইকে পুষিয়ে দেবেন বলেও অভয় দিচ্ছেন। তদবীরে পারদর্শী প্রকল্পে মাস্টার রোলে নিয়োগ প্রাপ্ত এই কর্মকর্তা স্বল্প সময়ের মধ্যেই সহকারী প্রকৌশলী থেকে উপরি ৩টি পদে পদোন্নতি নিয়ে প্রধান প্রকৌশলী পদে অধিস্থিত হয়ে রামরাজত্ব চালিয়ে আসছেন।
পিএসসিকেও ম্যানেজ করে নিজেকে প্রকৌশল ক্যাডার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আসছেন। পিএসসিতে অনুসন্ধান চালালেও পাওয়া যাবে জাল জালিয়াতির নিদর্শন বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। জানা যায় সাইফুরের পিতা প্রয়াত আজিজুর রহমান জামায়াত নেতা সোবাহান মাওলানা ও মতিউর রহমান নিজামীসহ মতি মিয়ার আস্থাভাজন ছিলেন। তার নিজ জেলা পাবনার ঈশ্বরদীতে।
দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি বিএনপি পন্থীদের নিয়ে গ্রুপ তৈরি করে আওয়ামী পন্থীদের চরম চাপে রাখেন। ১৪ আগস্ট ২০২০ বঙ্গবন্ধুসহ বীর শহীদদের স্মরণে দোয়া মাহফিলের ব্যানার টাঙ্গাতে বাধা দেন। ১৫ আগস্ট ২০২০ জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভূক্ত সংগঠন শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধুসহ স্বপরিবারের ছবি সম্বলিত ব্যানার অপসারণ করেন। এই নিয়ে নেতৃবৃন্দরা মানব বন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন। কিন্তু মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করে বেঁচে যান।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তিনি যশোর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী (চঃদাঃ) থাকাকালীন সময় হতে ঘুষ ও দূর্নীতির কারণে জাইকা তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করে কিন্তু সেখান থেকেও তিনি রক্ষা পান অর্থের বিনিময়ে। অর্থের বিনিময়ে টিউবওয়েল বরাদ্দ, প্রইমারী স্কুলে ওয়াশব্লক না করে বিল উত্তোলন, সময় বর্ধিত করন, মনোনীত ঠিকাদারদের অর্থের বিনিময়ে কাজ দেওয়া, সিএস এ দুই শতাংশ, তহবিল বরাদ্দের দুই থেকে আড়াই শতাংশ, বিলে ২ শতাংশ, অধিদপ্তরে সকল প্রকল্পে এভাবে সিএস পাশে দুই থেকে তিন শতাংশ, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর নিয়োগে ১০-১৫ লাক্ষ টাকা, কর্মকর্তাদের বদলী ২০-৩০ লাখ টাকা, ২য় শ্রেণী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলীতে ২-৩ লাখ এবং প্রকল্প পরিচালক পদে নিয়োগে ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতি করে প্রায় ১০০০-১৫০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এই সাইফুর রহমান প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে।
তিনি ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের অনুষ্ঠান নিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা করে অনুষ্ঠানকে বানচাল করার জন্য সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতেন। আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তিনি সব সময় বিভিন্ন বদলী ও সাময়িক বরখাস্ত করার ভয়ভীতি দেখিয়ে তার আয়ত্বে রাখতেন। এমনকি আওয়ামী তিনজন কর্মকর্তাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করিয়েছেন।
যে সমস্ত কর্মকর্তা তার কথা শুনতো না তাদের স্ত্রীর ফোনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে স্ত্রীদের দিয়ে অভিযোগ দায়ের করিয়ে অধিদপ্তরে দুইজন আওয়ামী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে তার আয়ত্বে এনেছেন। অনিয়ম, দূর্নীতি ও অর্থের গরমে তিনি আবারও ১০ই ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে তার আগেই বঙ্গবন্ধুর ছবি ভবনের প্রবেশ পথের পিলার হতে শেখ রাসেল চত্ত্বরে অপসারণ করেন।
তিনি ভেবেছিলেন খালেদা ও তারেক জিয়া দেশ চালাবে। কিন্তু আওয়ামী নেতারা তার চক্রান্ত ধরে ফেলে এবং এ নিয়ে বিএনপি পন্থীরা তার ঈশারায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে জনসম্মুখে বিভিন্ন কটুক্তি করতে থাকলে আওয়ামী পন্থীদের সাথে বিভিন্ন বাকদ্বন্দে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল হয়। তিনি বিচার না করে তালবাহানা করছে বলে জানা যায়। সাইফুর রহমান বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিয়ে কোটা অনুযায়ী পদ না থাকলেও ৭৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্বে মন্ত্রণালয় হতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন।
মোট সহকারী প্রকৌশলী পদ সংখ্যা ২৩৫ টি, অস্থায়ী পদ ৯৬ টি, মোট ৩৩১ টি। তার মধ্যে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হতে এক তৃতীয়াংশ ১১১টি পদ পান। প্রথম জিওতে ১৫১ জন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদান করেন। যোগদান করেন ১৪৮ টি অতিরিক্ত ৩৭ টি পদে এমনিতে কোটার বাহিরে পদায়ন করেছেন। মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল চাকুরী নীতিমালা বহির্ভূতভাবে আরও ৭৭ জন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব প্রদানের প্রজ্ঞাপন জারি করান।
সেই প্রজ্ঞাপনে দেখা যায় দুজনকে এক স্থানে পদায়ন করেছেন এবং যেখানে সহকারী প্রকৌশলীর পদ নেই সেখানেও পদায়ন করে প্রমান করেছেন নিময়নীতি বড় বিষয় নয়, অর্থের বিনিময়ে সব করা যায়। অধিদপ্তরে অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই দূর্নীতিবাজ, ঘুষখোর বদমেজাজীর এক্সটেনশন হলে স্বেচ্ছায় চাকুরি ছেড়ে চলে যাবেন বলে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন অনেকে।
তারা মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বরাবর এই দূর্নীতিবাজ প্রধান প্রকৌশলীর এক্সটেনশন যাতে না হয় তার প্রতিবাদ জানাবেন বলে জানা যায়। অন্য দিকে এই দূর্নীতিবাজ, ঘুষখোর প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মাননীয় মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বরাবর সাইফুর রহমানের গোপনে বিয়ে করা স্ত্রী মোসাঃ কানিজ ফাতেমা, পিতা মোঃ আলমগীর চোকদার, পূর্ব নাওডোবা, চোকদার কান্দি, জাজিরা, শরীতপুর তার শিশু কন্যার ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সরকারি পেনশন নীতিমালা মোতাবেক সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রাপ্য অধিকার প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেন।
বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের ও জাতীয় শ্রমীকলীগের অন্তর্ভূক্ত সংগঠনের নেতাদের কাছে দূর্নীতিবাজ সাইফুর রহমানের এক্সটেনশন বিষয়ে জানতে চাইলে নেতৃবৃন্দরা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার সুযোগ্য কন্যা দেশ রত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা “যেখানে দিন রাত দেশের মানুষকে ডাল-ভাত, অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের সুব্যবস্থাসহ দেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, সেই দেশে বিএনপি জামায়াত পন্থী দূর্নীতিবাজ, ঘুষখোর সাইফুর রহমানের চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ কখনও তা কাম্য নয়।