শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর
নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের বেশীরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। অধিদপ্তরটির বেশ কিছু প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নিম্ন মানের কাজ, ঠিকাদারের সাথে সিন্ডিকেট করে ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে।
রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের বেশ কিছু অনিয়ম ভুক্তভোগী ঠিকাদারগণ দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দেন। নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আজকের সংবাদকে জানান, তিনি বর্তমানে নাটোর জেলায় কর্মরত আছেন।
রংপুর ও গাইবান্ধা জেলায় কর্মরত থাকাবস্থায় গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জে আমিনা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও আব্দুর মজিদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রংপুর জেলাধীণ পীরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কাজে টেন্ডার ডকুমেন্ট পরিবর্তন করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রংপুর সদর উপজেলার সাহেবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়েরএকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য মেসার্স জেসি এইচ-এইচ-ই জেভি নামক প্রতিষ্ঠানকে চার কোটি ২২ লক্ষ টাকার কার্যাদেশ দেন আসাদুজ্জামান। কাজটি শুরুর আগেই নির্বাহী প্রকৌশলী ঠিকাদারকে ৫০ লক্ষ টাকা বিল আগ্রিম প্রদান করেন। মূলত, নিজের কমিশন আগে নেওয়ার জন্য তিনি আগ্রিম বিল প্রদান করেন। কিন্তু মাটি নরম হওয়ার কারনে নিম্ন মানের ভিত্তি দিয়ে কাজ করা সম্ভব হয়নি। আর উত্তোলনকৃত সরকারি অর্থ ভূয়া কাজের ভাউচার বানিয়ে আত্মসাত করেন।
নাগরিক শিক্ষাঙ্গন উচ্চ বিদ্যলয় ভবন নির্মাণ ক্ষেত্রে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ ও রাজ্জাক এন্টারপ্রাইজ একসাথে যুক্ত হয়ে কার্যাদেশ নেন। কাজ শুরুর আগে অগ্রিম উত্তোলন করা হয়। এবারো মাটির পুরত্ব না থাকায় নিমিৃতব্য ভবনের নকশা পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান নতুন নকশা অনুযায়ী টেন্ডার না করে পূর্বে কোম্পানীকে কাজ দেন।
আসাদুজ্জামানের নিজের সিন্ডিকেট ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার জন্য নিজের ইচ্ছে মতো কাজের অভিজ্ঞতা ও লিকুইড অ্যাসেট পূর্বপরিকল্পিতভাবে উল্লেখ করতেন। ভবন প্রাক্কলণ মূল্য ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা পিপিআর অনুযায়ী টেন্ডার অংশগ্রহণকারীদের লিকুইড অ্যাসেট চাওয়ার কথা প্রায় ৩ কোটি টাকা কিন্তু আসাদুজ্জামান হাস্যকর ভাবে ২৭৫ টাকা উল্লেখ করেন। সরকারি আইন ও ক্রয় নীতি অনুযায়ী ২০ কোটি টাকার ভবন নির্মাণ জন্য অভিজ্ঞতা হিেেব ১৫ কোটি টাকার সরকারি কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন সনদ প্রয়োজন।
নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার জন্য সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে কোল্ড স্টোরেজ ও বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণের অভিজ্ঞতা যুক্ত করে কাজ দেন। জাতীয় বিশ্বাবদ্যালয়ের তিনটি আঞ্চলিক কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্পের ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনের দরপত্রের কাজটি পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়ার জন্য ছলচাতুরির আশ্রয় নেন।
অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আজকের সংবাদকে জানান, এসব বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে। মূলত আমাকে সরানোর জন্য এসব করা হয়েছে। সব মিথ্যা অভিযোগ। দুদকের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।