শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর
নির্বাহী প্রকৌশলী আলতাফের দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বগুড়া জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আলতাফ হোসেনের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, কমিশন ও পছন্দের ঠিকাদার নিয়ে সিন্ডিকেট করে সরকারী অর্থ লোপাটের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া অফিসে সাধারন ঠিকাদারগণ অভিযোগ করেন।
বগুড়া জেলার পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলারও দায়িত্ব প্রাপ্ত হন আলতাফ হোসেন। বর্তমান কর্মস্থলে ২০১৫ সালে ২০ আগস্ট যোগদান করার পর অন্য কোথাও পদায়ন নেননি। বদলী আদেশ হলেও তিনি নানাভাবে তদবির বগুড়ায় অবস্থান করছেন। দীর্ঘ ৭ বছর দুইটি জেলার দায়িত্ব পালন করে আসছেন আলতাফ হোসেন। কাজ না করেও ঘুষ দিলে অগ্রিম বিল প্রদানের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর মেরামতের কাজ মেসার্স রিদয় -রিজভি ট্রেডার্সকে গত ২১ জুন ২০২১ সালে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কাজ শুরুর আগেই কার্যাদেশ দেওয়ার ২ দিন পর ২৩ জুন ২০২১ তারিখ ঐ কাজের বিপরীতে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। বিষয়টি জানজানি হয়ে গেলে তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করার ফলে কাজের গুনগত মান নিয়ে সংশয় রয়েছে।
বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রকল্পের অধিনে স্কুল সমূহের ফর্ণিচার প্রদান করা হয়। সরাবরাহকৃত ফর্ণিচার সমূহে মেহগুনি কাঠ দেওয়ার বিষয়টি কার্যাদেশে উল্লেখ থাকলেও নিম্নমানের কাঠ দেওয়া হয়। ৫ লি; এঙ্গেলের পরিবর্তে ৩ লি এঙ্গেল ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি কাজের সিএস পাশ ও পরিশোধিত বিলের জন্য অফিসে ঘুষের রেট নির্ধারিত করা থাকে। ব্যক্তিগত কমিশনকে “পিসি” বলে আখ্যা দেওয়া হয়।
আলতাফ হোসেনের আস্থাভাজন ঠিকাদার এইচ বি এন্টারপ্রাইজ। এই ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠানের মালিকের নিকটাত্মীয় ব্যাংকে হিসাবেই আলতাফ হোসেনের বিপুল পরিমান অর্থ জমা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। আলতাফ হোসেনের সকল কাজে সহযোগি হিসেবে থাকেন সহকারী প্রকৌশলী সুজাবত আলী।
অফিসে কম্পিউটার টাইপিং পদে জনবল থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশল অন্য একজন মহিলা নিজ ইচ্ছায় নিয়োগ দিয়েছেন। অফিসের ৫ ম তলায় রাত্রীযাপন করার জন্য একটি সু-সজ্জিত কক্ষ তৈরী করেছেন। অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের সকল কাজ তিনি রাতে এই রুমে করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী আলতাফ তার নিজের অফিস রুমের ইন্টোরিয়র ডেকোরেশন জন্য প্রায় দশ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। এসব বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আলতাফ হোসেনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায় নি।