দেখার কেউ নেই
কাচালং মুখ বনশুল্ক ও পরীক্ষন ফাঁড়িতে চুক্তিতে চলছে বনজ সম্পদ পাচারের মহোৎসব
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কাচালং মুখ বনশুল্ক ও পরীক্ষন ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার সজীব মজুমদারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে চলছে কাঠ পাচারের মহোৎসব। গত একবছর অধিকাল সময় ধরে কোটি কোটি টাকার বনজ সম্পদ উজাড়ে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার স্বজন হওয়ার সুবাদে থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। শুধু তাই নয় একজন তৃতীয় শ্রেণীর ১৫ গ্রেডে বেতন ভাতা প্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজ বাসায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের এয়ারকন্ডিশন লাগিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করার পাশাপাশি চোরাই কাঠ/বাঁশ ব্যবসায়ীদের পাচারে সহযোগিতা করে লাখ লাখ টাকা অবৈধ উপার্জন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় এক সময়ের সম্বৃদ্ধ সবুজবন, গভীর অরণ্য, মূল্যবান গর্জন, সেগুন, বৈলাম, চাম্পাফুল, চাপালিপ, চিকরাশি, বন্দরহোলা, গামার, সরুজ ইত্যাদি গাছের সমারোহে চির হরিৎ এবং আংশিক চির হরিৎ গভীর অরণ্য বলতেই ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ। কি মনরোম শোভা ছিল এই বনের যা কল্পনাতীত। মাইলি শীর্ষক ইত্যাদি বন রেঞ্জ সমূহ বনের ভিতর হাটলে মন জুড়িয়ে যেত।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অধীন কাচালং মুখ বনশুল্ক ও পরীক্ষন ফাঁড়িটি অনেক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুপারিশে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ এবং অশ্রেণীভুক্ত বনাঞ্চল বনীকরন বিভাগের (ইউএসএফ) বনজ সম্পদ রক্ষা এবং পাচার রোধ ও বাঁশ, বেত ইত্যাদি বনজদ্রব্য হইতে বন শুল্ক আদায় সহ জোত পারমিট ও নিলামে বিক্রিত কাঠ সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ছাড়পত্র প্রদানের নিমিত্তে স্থাপন করা হয়েছিল।
নদীপথে কর্তৃত গাছ, বাঁশ, বেত ইত্যাদি স্থান হতে রাঙ্গামাটি সদর এবং কাপ্তাই নেওয়ার জন্য নদী পথের সর্বশেষ বনশুল্ক ও পরীক্ষন ফাঁড়ি হচ্ছে কাচালং মুখ ফরেস্ট বনশুল্ক ও পরীক্ষা ফাঁড়ি। এই বনশুল্ক ও পরীক্ষন ফাঁড়ির নিয়মিত কাজ হচ্ছে শ্রেণি অনুযায়ী বাঁশের বিপরীতে রাজস্ব আদায় করবে ছাড়পত্র প্রদান এবং জোত পারমিটের অনুবলে ঘাটে আসা চালিতে বাধা কর্তিত গাছের টুকরা সমূহ প্রতিটি টুকরা চলাচল পাশে বর্ণিত কাঠের টুকরার সহীত জাত, মাপ, পরিমাপে সার্বিক আছে কিনা পরীক্ষা করত: সঠিক পাইলে ছাড়পত্র প্রদান করা, গড়মিল পাইলে জব্দ করে বন মামলা দায়ের করা।
এছাড়া কাচালং মুখ বনশুল্ক ও পরীক্ষন ফাঁড়ির কর্মকর্তা তার জুরিসডিভিশনে জোত পারমিট ও ইস্যু করে থাকেন। জোতে গাছ থাকুক আর না থাকুক জোত পারমিট ইস্যু করতে এই ফাঁড়ির কর্মকর্তা কুণ্ঠাবোধ করেন না। জোতে গাছ না থাকলেও কাল্পনিক গাছের অবস্থান দেখিয়ে এই কর্মকর্তা ভুয়া পারমিট ইস্যু করে সেই ভূযা জোত পারমিটের ছত্র ছায়ায় কাঠ ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশ করে অবৈধভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা পকেটে নিয়ে সরকারি বোনের গাছ নৌকা, ট্রলার ও পানিতে পাধা চালির মাধ্যমে দিনে ও রাতে অভিনব কায়দায় পাচার করে থাকেন।
এছাড়া এই ফাঁড়ীর কর্মকর্তা মূল কাঠ চোরাকারবারিদের সাথে সখ্যতা গড়ে গভীর রাতে নৌকা ও ট্রলারে সরকারী বনের কাঠ পাচারের সহায়তা করে কাঠ চোরাকারবারীদের নিকট থেকে প্রতিমাসে অবৈধভাবে কোটি টাকা রোজগার করে থাকেন। কাচালং মুখ মুখ বনশুল্ক ও পরীক্ষন ফাঁড়িটি গুরুত্বেরদিক থেকে অনন্য এই পরীক্ষান ফাঁড়িটি এশিয়া মহাদেশের অন্যতম একটি বনজ দ্রব্য পরীক্ষা ফাঁড়ি নামে পরিচিত। সেই বিবেচনায় এই পরীক্ষান ফাঁড়িটির দায়িত্ব পালনে ফরেস্ট রেঞ্জার পদের বন কর্মকর্তার পোস্ট হিসেবে ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানিং-এ বর্ণিত আছে।
বন কর্তৃপক্ষ সেই গুরুত্ব বিবেচনায় না এনে ফরেষ্টার পদের একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীকে দিয়ে কাচালং মুখ বনশুল্ক ও পরীক্ষন ফাঁড়ির দায়িত্ব পালন করাচ্ছেন। ফরেস্টার সজীব মজুমদার এ প্রতিবেদককে বলেছেন তিনি বৎসরে অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছেন।
কিন্তু তিনি বছরে অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের বিপরীতে রাজস্ব আদায় ছাড়া কোটি কোটি টাকার বনজদ্রব্য পাচারের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন সুকৌশলে।ফরেস্ট রেঞ্জার থাকতেও এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে কিভাবে নিম্ন পদের ফরেস্টার রাজস্ব আদায় রাজস্ব আদায়ে কারচুপি এবং ভয়-ভীতি হীন ভাবে সরকারি বনজ সম্পদ পাচার করে ঊর্ধ্বতনের পদে বহাল আছেন এ প্রশ্ন বন বিভাগের কর্মচারী ছাড়াও স্থানীয় সচেতন মহলের। শুধু এখানেই শেষ নয় বনশুল্ক ও পরীক্ষন ফাঁড়ি এবং ফরেস্ট চেক স্টেশন সমুহে বন বিভাগের ২০০৪ সনের বদলি ও নিয়োগ নীতিমালা মতে এক (১) বছরের বেশি কোনো কর্মচারীকে রাখার নিয়ম না থাকলেও ফরেষ্টার সজীব মজুমদার এক বছরেরও অধিক উক্ত ফাঁড়ির দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে নীতিমালা পরিপন্থি বেআইনি ভাবে অবস্থান করছেন তেমনিভাবে নীতিমালা বাস্তবায়নকারী কতৃপক্ষকেও তদবীর বা ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে তাকে উক্ত ফাঁড়ী হতে অন্যত্র বদলি করা থেকে বিরত রেখেছেন।
তাই যদি না হয় তাহলে নীতিমালা ভঙ্গ করে কর্তৃপক্ষ এক বছরের পর একদিন ও বেশি ফরেস্টার সজিব মজুমদারকে উক্ত ফাঁড়ির দায়িত্বে রেখেছেন কিভাবে এবং কোন নীতিমালার আলোকে? এভাবেই চলছে নীতিমালা ভঙ্গ সহ সরকারী বনের কাঠ পাচার ও রাজস্ব আদায়ে অনিয়ম রাঙ্গামাটি বন অঞ্চলে। অনিয়মকে নিয়মে আনার জন্য সরকারী বিশেষ মহলের প্রতি সচেতন মহলের দাবি।
সজীব মজুমদার এবং তার মত ফরেস্টার যদি কাচালং মুখ বনশুল্ক ও পরীক্ষন ফাঁড়িতে দায়িত্বে থাকে তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বনাঞ্চলে অবশিষ্ট বন অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে। বন ও পরিবেশ রক্ষার্থে এ ধরণের ফরেস্টারদেকে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টিং দেওয়া থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করেন।