পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কাচালংমুখ বন ও শুল্ক পরীক্ষণ ফাঁড়িতে চলছে হরিলুট
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কাচালং মুখ বন ও শুল্ক পরীক্ষণ ফাঁড়িতে চলছে হরিলুট। এই ফাঁড়ির দায়িত্বে নিয়োজিত ফরেস্টার সজীব মজুমদারের নেতৃত্বেই লুটপাট চালালেও দেখার কেউ নেই। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ফরেস্টার সজীব দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কখনই ফিল্ডে না যেয়ে অফিসে বসেই জোট পারমিট প্রদান করেন।
পারমিটে যে স্থানে জোটের গাছের বর্ণনা দেয়া হয় সরেজমিন সে সব স্থানে গিয়ে কোন গাছ দেখা যায় না। এই পারমিটের অনুবলে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা মূল্যের সেগুন কাঠ কেটে পাচার করা হচ্ছে। আবার আবার এক পারমিটের অনুবলে কয়েক দফা বন উজাড় করে কাঠ কেটে লরি, পিকআপ ও ট্রলার যোগে পাচারের ঘটনা ঘটেছে। বিনিময়ে ফাড়ি কর্মকর্তা অফিসে বসেই লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করছেন।
অপরদিকে বিভিন্ন জোট ভূমি থেকে পারমিট বিহীন অবৈধভাবে কেটে আনা গাছ রাতের অন্ধকারে ট্রলারযোগে পাচার হয়ে আসছে। এই সব চোরাই কাঠ ব্যবসায়ীদের সাথে ফরেস্টার সজীব মজুমদারের একটা অলিখিত চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তি মোতাবেক তিনি সিএফটি প্রতি ৬ টাকা হারে ঘুষ আদায় করে থাকেন। তাছাড়াও দিবালোকে ট্রলার যোগে যে সব কাঠ আসে তা এই ফাঁড়িতে জাত/মাপ পরীক্ষা করার কথা থাকলেও সিএফটি প্রতি বিভিন্ন হারে খোদ ফাড়ি কর্মকর্তার নামে ঘুষ আদায় করা হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ বনজ সম্পদ এই কর্মকর্তার সহযোগিতায় পাচারের ঘটনা ঘটছে।
বিনিময়ে ফরেস্টার সজীব মজুমদার লাখ লাখ টাকা অফিসে বসেই উপার্জন করছেন। তিনি দীর্ঘ ১ বছর অধিককাল সময়ে এই ফাড়ির দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে এভাবে বনজ সম্পদ পাচারে সহযোগিতা করলেও থেকে গেছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অথচ ২০০৪ সালের বদলী নীতিমালা অনুযায়ী ফাঁড়িতে ১ বছর রাখার নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সাথে সখ্যতার কারণে তিনি বহাল তবিয়তে একবছর অধিকাল সময় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
এতদসংক্রান্তে ফরেস্টার সজীব মজুমদারের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন আমি কি করি সবকিছুই ডিএফও সাহেব অবগত আছেন। গত ১ বছরে আমি প্রায় অর্ধকোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছি। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অর্জিত কুমার রুদ্র’র সাথে আলাপকালে তিনি ফাড়ি কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে বলে লাইন কেটে দেন। তবে বনজ সম্পদ রক্ষার্থে এই কর্মকর্তার সার্বিক কর্মকাণ্ডে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন।