রাজধানীতে বিলাসবহুল বাড়ীসহ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি
পাটুরিয়া ঘাট টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট রবিউল হাসান তাহেরী, মাজহারুলদের বেপরোয়া দূর্নীতি
বিআইডব্লিউটিসি’র অধীনে মানিকগঞ্জ পাটুরিয়া ফেরীঘাটে ফেরীপারারের অনিয়ম, দূর্নীতি করে যাচ্ছেন দেদারচ্ছে, টিএস, রবিউল ইসলাম তাহেরী গংদের ঘুষ-বাণিজ্যর অত্যাচারে দিশেহারা সাধারণ পরিবহণ ও প্রাইকার মালিকেরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া নিজেদের পকেট ভারী করছেন টার্মিনাল সুপাররেন্ট’রা আর সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছেন। এ যেন সীমাহীন দূর্নীতি দেখার কেউ নাই। সূত্রে জানা যায় টিএস রবিউল হাসান তাহেরী, গোলাম মোস্তফা, টিএস, কাউন্টার ইনচার্জ ইজ্জত আলী, টিএস মাজহারুল ইসলাম, এরা দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর যাব একই জায়গায় কর্মরত থাকায় দূর্নীতির স্বর্গরাজ্য পরিণত করেছেন। এদের কেউ বদলী করাতে পারেন না, মহা ক্ষমতাধর ব্যক্তি এরা।
টিএস তাহেরী সিন্ডিকেট বাহিনী আরিচা ফেরীঘাট এলাকাতে রামরাজত্ব কায়েম করে চলেছেন। দীর্ঘ বছর একই জায়গায় কর্মরত থাকার কারণে এদের আর্শীবাদ পুষ্ট বিআইডব্লিউটিসি’র ঘুষখোর কর্মকর্তা চিপ পার্সোনাল ম্যানেজার মানসুরা আহমেদ এর ছত্র ছায়ায় থেকে খোজ নিয়ে আরোও জানা যায় প্রতি মাসে মোটা অংকের মাসহারা দিয়ে পাটুরিয়াখাট এলাকাতে ত্রাশের রাজত্ব করে চলেছেন তাহেরিগংরা। এছাড়া টিএস মফিজ পাটুরিয়াখাটে ক্যাশ তসরুপ চুরির অপরাধে তৎকালীন সময় তাকে মাওয়াঘাটে বদলী করা হয়।
মাওয়াঘাটে যোগদান করে সেখানেও কাউন্টারের টাকা আত্মসাৎ করার অপরাধেও বিআইডব্লিউটিসি’র অডিট আপত্তি ও মন্ত্রণালয়ের আপত্তি জানান ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা অডিট আপত্তি জানালে দূর্নীতি দায়ে অভিযুক্ত হয় টিএস মফিজ, পরবর্তীতে চিপ পার্সোনাল ম্যানেজার মানসুরা আহমেদ মোটা অংকের টাকার ঘুষের বিনিময়ে সেই দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মফিজ কে পুনরায় পাটুরিয়ায় বদলী করেন আনেন, সে সময় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছিল বিআইডবিøউটিসি’র প্রধান কার্যালয়ে।
বর্তমান চেয়ারম্যান আহমদ শামীম আল-রাজী যোগদানের পর হইতে বিআইডব্লিউটিসি’র অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আশা করেছিলেন এই ধরনের মহাদূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদেরকে বদলী করাবেন ও তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সেই আশায় গুরেবালী বলে মনে করেন পাটুরিয়া কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআইডব্লিউটিসি’র একাধিক কর্মকর্তা আজকের সংবাদকে জানান দূরপাল্লার খুলনা সাতক্ষীরাগামী চেয়ারকোচ ভিআইপি ৫নং ঘাটে পারাপারের নামে প্রতি গাড়ী হইতে প্রতি মাসে ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন ঐ সকল দূর্নীতিবাজ তাহেরিগংদের গৌরাত্ত চরমে তাদের বেপরোয়া ঘুষ দূর্নীতির কারনে পাটুরিয়াঘাটে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
সূত্রে আরো জানা যায় চেয়ারকোচ ভিআইপি পারাপারের নামে ঘুষের টাকা একটি অংশ বিআইডব্লিউটিসি’র প্রধান কার্যালয়ে মানসুরা সহ অসাধু কিছু কর্তা ব্যক্তিদেরকে ভাগ দিতে হয়। চিপ পার্সোনাল ম্যানেজার মানসুরা আহমেদ এমন ভাব করেন যে, ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানেন না বলে নিজে কে জাহির করেন উর্দ্ধোতন কর্মকর্তাদের কাছে। উন্নয়ন বা সেবার নামে বহুদিন ধরে প্রতিনিয়ত দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন টিএস রবিউল হাসান তাহেরিগংরা।
সংস্থার উন্নয়নের নামে হীনস্বার্থ চরিত্রার্থ কোটি কোটি টাকার দূর্নীতি মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের অবৈধ উপার্জিত অর্থ দিয়ে তাহেরি রাজধানী ২৮২ উত্তর গোরান খিলগাঁও বিলাশবহুল বাড়ী নির্মাণ করেছেন, যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক টিএস রবিউল হাসান তাহেরী টিএস মাজহারুল ইসলাম, টিএস গোলাম মোস্তফা ও ইজ্জত আলীগংদের অবৈধ সম্পদের ভারে নিজেদেরকে বড়মাপের অফিসার ভাবেন। তাদের হাবভাব দেখলে মনে হবে যেন, মস্তবড় অফিসার।
পাটুয়ারীঘাট এলাকাতে বিআইডব্লিউটিসি’র অধীনে কর্মচারীদেরকে জিম্মি করে রেখেছেন তাহেরী গংরা। বিগত সময় তাহেরীগংদের বিরুদ্ধে মুখ খোলতে চাইলে একাধিকবার কর্মচারীরে উপরে মারামারি প্রতিফলন ঘটেছিল। উক্ত বিষয়ে একাধিকবার সেই সময় বিআইডব্লিউটিসি’র প্রধান কার্যালয়ের কর্তা ব্যক্তিদের কাছে মৌখিকভাবে জানালে কোন প্রতিকার পাননি সাধারণ কর্মচারীগণ।
উল্টো চিপ পার্সোনাল ম্যানেজার মানসুরা আহমেদ এর কাছে বকাঝকা ও বদলীর হুমকী শুনতে হয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাটুরিয়াঘাট কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী আজকের সংবাদকে জানান। এছাড়া টিএস মাজহারুল ইসলাম কয়েক কোটি টাকা দিয়ে বাড়ী নির্মাণ করেছেন, তাদের সম্পদের খোজ খবর নিলে বৈধকোন আয়ের উৎস দেখাতে পারবেন না দুদকের কাছে। বিআইডব্লিউটিসি’র সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটাই প্রশ্ন ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী হয়ে এত ধন-সম্পদ কোথা থেকে পেলেন। তাদের চাকুরী শুরু হতে নুন আনতে পান্তা ফুরাত। এখন প্রত্যেকেই কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। যা সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা খোজ নিলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে।
দীর্ঘদিন একই জায়গায় কর্মরত থাকার কারনে ঐ সকল টিএসগণ বেপরোয়া দূর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন পাটুরিয়াঘাটে। দূর্নীতিবাজ এতটাই শক্তিশালী যে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই তাদেরকে চাকুরীচ্যুত, বদলীসহ কোনো না কোনো শাস্তি দিয়ে হয়রানী করা হয়, যার ফলে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। সংস্থায় শ্রমিক কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ভিতরে তীব্র আলোড়ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন পাটুরিয়াখাটে কর্মরত তাহেরিগংরা। সরকারের উচ্চ পর্যায় গোয়েন্দা সংস্থা, দুদক তাদের অবৈধ সম্পদের খোজ খবরে জোর দাবি জানিয়েছেন, বিআইডব্লিউটিসি’র সাধারণ কর্মচারীরা।