অগ্রণী ব্যাংকে এখন “ওয়ান ম্যান শো”
বদলি-পদোন্নতি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋন মঞ্জুর তদবিরের জন্য দেশব্যাপি ডিএমডি বাশারের ক্যাশিয়ারগন তৎপর
ফ্যাসিবাদের দোসর হওয়া সত্ত্বেও অগ্রণী ব্যাংকের ডিএমডি বাশার এখনও বহাল তবিয়তে। বিগত সরকারের গোটা ১৫ বছর চাঁদপুরের বাসিন্দা হবার সুবাদে সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া ও দীপু মনির নাম ভাঙ্গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর খবরদারি করে সকল প্রকার অনিয়ম চালিয়ে কোটি কোটি টাকা অবৈধ উপার্জন করেও থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বর্তমান অন্তবর্তী সরকার আমলেও তিনি নিজেকে বিএনপি’র লোক পরিচয়ে দু-চারজন ঋণ গ্রহীতা বিএনপি নেতাকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে বহাল তরিয়তে নিয়োগ, বদলী সহ ঋণ মঞ্জুর করে দুহাতে উপার্জন করে চলছেন। অবস্থার দৃষ্টিতে মনে হয় বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকে চলছে “ওয়ান ম্যান শো”। অর্থাৎ ডিএমডি বাশারের সম্মতি ছাড়া কোন কাজই হয় না।
ব্যাংকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি দায়িত্ব নেবার পর ফ্যাসিবাদের দোসর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকার বাইরে বদলীর নির্দেশ দিলেও তিনি বদলি করেননি। শুধু তাই নয় বিএনপি অনুসারী ঢাকায় কর্মরতদেরও বাইরের জেলায় বদলী করেছেন। ব্যাংকের নিয়ম মোতাবেক ডিএমডি-১ এর বদলি পদোন্নতির বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত হবার কথা থাকলেও তিনি বিগত সরকার আমলেই ২ নং ডিএমডি হয়ে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি এই লোভনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে অধিষ্ঠিত থাকায় বর্তমান অন্তবর্তী সরকার আমলে চেয়ারম্যান ও এমডি কে ম্যানেজ করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে প্রায় ৩৫০০ কর্মকর্তাকে সুপার নিউমারি পদোন্নতির ব্যবস্থা করেন। এখানেও ফ্যাসিবাদের অনেক দোসরকে ডিএমডি বাশার পদোন্নতির সুযোগ করে দেন। পাশাপাশি তার অনুগতদের লোভনীয় শাখায় বদলী- নিয়োগ করেন।
সূত্রমতে সারাদেশেই রয়েছে ডিএমডি বাসারের ক্যাশিয়ার। যারা বদলি-পদোন্নতি, ঋণ বিতরণ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি করে ডিএমডি বাশার কে মাসে লাখ লাখ টাকা প্রদান করে থাকেন। প্রাপ্ত তথ্য মতে ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় রাজশাহীতে তার ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করেন রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মরত এসপিও ওয়াহিদা ইয়াসমিন (যিনি আরসিসি মেয়র লিটনের নিকটাত্মীয়) এবং মালোপাড়া শাখার ম্যানেজার এসপিও মোঃ রেজাউল করিম, কুমিল্লাতে আছেন এজিএম বায়েজিদ ও এজিএম আলাউদ্দিন। গত বছর তাদেরকে এজিএম বানানো হয়। চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণের আঞ্চলিক অফিসে কর্মরত ডিজিএম শাহজাদুল আলম মানিক ও চট্টগ্রাম সার্কেল অফিসের ডিজিএম লক্ষণ চন্দ্র দাস। ঢাকাতে দায়িত্ব পালন করেন পুরানা পল্টন কর্পোরেট শাখার ম্যানেজার ইসকন নেতা ডিজিএম বিধান চন্দ্র মল্লিক এবং ডিএমডি বাশারের দপ্তরে কর্মরত এজিএম মোঃ শাহাজান, এসপিও রওনক আদনান ও এসপিও আরিফুল হক। এভাবে সমগ্র দেশেই রয়েছে ডিএমডি বাশারের নিয়োজিত ক্যাশিয়ার। যাদের দায়িত্ব হচ্ছে বিভিন্ন পদোন্নতি তদবীর, বদলী-নিয়োগ বাণিজ্য, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋন মঞ্জুর করা সহ নানান অনিয়মতান্ত্রিক কাজ ঘুষের বিনিময়ে করে ডিএমডি বাশারকে টাকা পাঠানো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অগ্রণী ব্যাংকের একজন জিএম বলেন বর্তমানে ডিএমডি বাশারের সম্মতি ছাড়া এখানে কিছু হয় না। এক কথায় “ওয়ান ম্যান শো”। কারণ গত ২১ জুলাই ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ফ্লোরে তিনি ব্যাংকের নির্বাহী ও এজিএমদের দিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিছিল করিয়ে তাকে ইমোশনাল ব্লাক মেইল করেন। এর পর থেকেই চেয়ারম্যান, এমডি, ডিএমডি বাশারের সাথে তাল মিলিয়ে চলে আসছেন। ক্যাশিয়ার নিয়োগ সংক্রান্তে এই জিএম আরো বলেন সকল জেলাতেই ক্যাশিয়ার নিয়োগ আছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তারা গুলশানস্থ কোরিয়ান ক্লাব বা অল কমিউনিটি ক্লাবে ডিএমডি বাশারের সাথে মিলিত হয়ে লেনদেন করে থাকেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে উপার্জিত অবৈধ অর্থ দিয়ে রাজধানীতে নিজের মেয়ের নামে ৪টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, নিজ নামে বসুন্ধরায় বাড়ীসহ নামে বেনামীতে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ব্যাংকের সাথে সংশ্লিষ্টদের মতে ব্যাংকের কার্যক্রমে স্বচ্চতা ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতিতে রেকর্ড সৃষ্টিকারী এই কর্মকর্তাকে অবিলম্বে অন্যত্রে বদলী বা তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।