মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোসর
আনোয়ার কবির’র বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ
মৎস্য অধিদপ্তরে প্রশাসন শাখা ২ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক আনোয়ার কবির বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক দুনীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। সুত্রে জানা যায় বিগত ফ্যাসিষ্ট লীগ সরকারের আমলে অবৈধ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছিলো তার নেতৃত্বে।
লীগের দাপট দেখিয়ে দিনকে রাত আর রাত কে দিন বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তার ঘুষ দুনীতির বিরুদ্ধে মৎস্য অধিদপ্তরে কোন কর্মকর্তা কর্মচারীার মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। আর যে সকল কর্মকর্তা গন তার দুনীতির বিরুদ্ধে কথা বলতেন সেই সকল কর্মকর্তা দের কে বদলী সহ বিভিন্ন ভাবে নাজেহাল হতে হয় তার হাতে। এক কথায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রা জিম্মি হয়ে পরেছিলেন তার নিকট।
সৈরাচারী লীগ সরকারের পতন হলেও এখনো বহাল তরিয়াতে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দেদারসে আনোয়ার কবির। তার হাত এতোটাই লম্বা যে লীগের দাপটি অফিসার এখনো বহাল তরিয়াতে অধিদপ্তরের দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সুত্র মতে মৎস্য অধিদপ্তরের প্রশাসন-২ শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোঃ আনোয়ার কবীরকে ঘিরে নানা অনিয়ম, পক্ষপাত ও রাজনৈতিক সুবিধাবাদের অভিযোগ ছিল ভরি ভরি তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ,রয়েছে আওয়ামী লীগ আমলে ধারাবাহিকভাবে সুবিধা ভোগ করে আসছেন এবং স্বৈরাচারী প্রশাসনিক কৌশলে এখনো অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন তিনি। লীগের ‘স্বৈরাচার-ঘেঁষা’ কর্মকর্তার স্থিতি এবং প্রভাব ছাত্র-জনতার স্বপ্নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন অনেক কর্মকর্তারা। সূত্র বলছে, আনোয়ার কবীর দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একটি বিশেষ গোষ্ঠীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থেকে দুনীতির স্বর্গরাজ্য চালিয়ে ছিলেন. তিনি নিজ দপ্তরের নিয়োগ, বদলি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকতেন। এমনকি কোনো নীতিমালা অনুসরণ না করেই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করেন, তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছিলেন সৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের আমলে।
অভিযোগ রয়েছে, আনোয়ার কবীর প্রকল্প ও সরবরাহ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে তার পছন্দের নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের প্রাধান্য দিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া পরিচালনা করতেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে। এতে করে সরকারি অর্থের অপব্যবহার, স্বচ্ছতার অভাব এবং সরকারি কাজের গুণগতমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। আনোয়ার কবীরের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি অতীতে স্বৈরাচারী লীগের আমলে বা আওয়ামী শাসনামলে দায়েরকৃত রাজনৈতিক মামলার সূত্র ধরে অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তাকে এখনো হয়রানি করছেন আবার অনেক এর কাছ থেকে টাকা নিয়ে দায় মুক্তি দিচ্ছেন তিনি। এসব মামলার অধিকাংশই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করা হলেও তিনি সেগুলোর তথ্য তুলে ধরে চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। শুধু মাত্র হয়রানি করার কারণে মৎস্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে আওয়ামী লীগপন্থী কর্মচারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আনোয়ার কবীর ‘প্রশাসনিক পক্ষপাতের রূপকার’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
রাজনৈতিক মদদপুষ্ট এই শ্রেণির কর্মচারীদের কারণে অধিদপ্তরের নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে তার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশ করার না সর্তে একাধিক কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদককে বলেন “মৎস্য অধিদপ্তরের মতো টেকনিক্যাল ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক রং মাখানো প্রশাসনিক আচরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক।” সংস্কারের এই সময়ে এমন কর্মকর্তা বহাল থাকা সরকারের সদিচ্ছার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। লীগের দোসর আনোয়ার কবির এখনো বহাল তরিয়াতে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দেদারসে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে কর্মরত থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন আনোয়ার কবির। রাজধানী মতিঝিল এলাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় নামে বে নামে সম্পদের পাহাড় গরে তুলেছেন মহা ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ আনোয়ার কবির মৎস্য অধিদপ্তর তার পারিবারিক দপ্তরের পরিনত করেছে। দুদক সহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা তদন্ত করলে থলের বিরাল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন মৎস্য অধিদপ্তর এর কর্মকর্তা কর্মচারীরা।