অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন অব্যাহত
স্বৈরাচারের দোসর হওয়া সত্ত্বেও অগ্রণী ব্যাংকের ডিএমডি বাসার বহাল তবিয়তে ॥ দেখার কেউ নেই
রাষ্ট্রয়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি তে ফ্যাসিবাদের দোসররা নানান গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বরত থেকে আওয়ামী লীগের নানা এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। ব্যাংকের বর্তমান ২ নং ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) মুহাম্মদ এ. বাসার বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী হলেও এখনও তিনি বহাল তবিয়তে একই চেয়ারে বসে রাম রাজত্ব চালাচ্ছেন। তিনি চাঁদপুরের বাসিন্দা হবার সুবাদে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া’র খোদ লোক হিসেবে গোটা ব্যাংকিং কার্যক্রম নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ইচ্ছে মাফিক লুটপাট চালিয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে তিনি থোড়াই কেয়ার করতেন। তাদের বৈধ আদেশ নির্দেশ ও তিনি মানতেন না।
সূত্রমতে তিনি ব্যাংকের ২ নং ডিএমডি হয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ব্যাংকিং নিয়মানুযায়ী ১ নং ডিএমডি’র প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও তিনি চাঁদপুরের মন্ত্রী মায়া চৌধুরীর আত্মীয় ও দীপু মনির ঘনিষ্ঠ জন হিসেবে নিজেকে জাহির করে ক্ষেত্র বিশেষ তাদেরকে দিয়ে চেয়ারম্যান এবং এমডিকে ফোন করিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐ দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। যা আজও পালন করে আসছেন। লীগ সরকারের গোটা ১৫ বছর সময়কালে তিনি প্রিন্সিপাল অফিসার থেকে অবৈধভাবে পদোন্নতি নিয়ে গত ২০২৩ সালে ডিএমডি পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নিতে সক্ষম হন। তিনি প্রশাসনের দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে বদলি, পদোন্নতি, অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানকে মোটা অংকের ঋন প্রদানের তদবির করে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে আসছেন।
সুত্রমতে যে কোন শাখায় ম্যানেজার হিসেবে পদায়ন করতে তিনি ১০ থেকে ২০ লাখ পর্যন্ত ঘুষ আদায় করে থাকেন। অস্তিত্ব বিহীন প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ শতাংশ ঘুষের চুক্তিতে ব্রাঞ্চ ম্যানেজারদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ঋণ মঞ্জুর করাতে বাধ্য করেন। যে সকল ঋণের টাকা বেশির ভাগই অনাদায়ী রয়েছে। অনেক ঋন গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ঋণের মোটা অংকের টাকা খেলাফি হয়ে পড়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা অনাদায়ী থাকায় ব্যাংকের তারল্য সংকটে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মহিলা ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেবার পর আওয়ামী ঘরনার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকার বাইরে বদলির নির্দেশ দিলেও তিনি তাদেরকে বদলি না করে তাদের মাধ্যমেই বর্তমানে বদলি বাণিজ্য করছেন চেয়ারম্যানের নির্দেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বঙ্গবন্ধু পরিষদ/ বঙ্গমাতা পরিষদের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লোভনীয় পদে নিয়োগ বদলী অব্যাহত রেখেছেন। ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত হবার পর ডিএমডি বাসার প্রধান কার্যালয় সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পদায়নের বিষয়টিতে নিরীহ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর বিএনপি সমর্থিত কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাইরে থেকে ঢাকায় পোস্টিং করা হয়নি। এমনকি ঢাকাতে যারা ছিলেন তাদেরকেও বাইরে পোস্টিং করা হয়েছে।
ডিএমডি বাসার সিন্ডিকেটে রয়েছেন আরো ৩জন মহাব্যবস্থাপক। এই ৪ জনের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট প্রত্যেকেই আওয়ামী ঘরনার লোক। এই সিন্ডিকেটই বিভিন্ন তদবির বাণিজ্যের টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে থাকেন। এরা সবাই ৯৩ ব্যাচের অফিসার। বর্তমান সরকারের বিগত ১০ মাস সময়ে এরা সবাই একই চেয়ারে থেকে সাবেক কায়দায় লুটপাট চালাচ্ছেন। অবিলম্বে এই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে তাদেরকে ঢাকার বাইরে বা অন্য ব্যাংকে বদলি করা হলে অগ্রণী ব্যাংকে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে বলেও কয়েকজন অর্থনীতিবিদ মনে করেন।
ইদানিং ব্যাংকের ৬টি সার্কেলের মহাব্যবস্থাপকদের ফোন করে ও মাসিক মাসোহারা আদায় করার প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে বাসার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। সুত্রমতে এই চক্রটি এতই শক্তিশালী যে বিগত ৩ মাস পূর্বে তারা বর্তমান চেয়ারম্যান ও এমডিকেও সিন্ডিকেটের কিছু সুবিধাভোগী কর্মকর্তা কর্মচারীকে দিয়ে হুমকি দিয়েছেন। যাতে করে বাসার সিন্ডিকেটের অপকর্মের বিরুদ্ধে তারা কোন বিরূপ সিদ্ধান্ত না নিতে পারেন। ফলে অগ্রণী ব্যাংকের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ এখন বাসার সিন্ডিকেটের হাতে। পদোন্নতি/বদলি/ অনিয়মিত ঋণ প্রদানের মাধ্যমে উপার্জিত অবৈধ অর্থ দিয়ে ডিএমডি বাসার বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছেন। শুধু তাই নয় এই সিন্ডিকেটের প্রতিটি সদস্যই বিশাল বিত্ত বৈভরের মালিক। যা গোপন ও প্রকাশ্য তদন্তে প্রমাণিত হবে বলেও ঐ কর্মকর্তা জানান। এতদ্বসংক্রান্তে ডিএমডি বাসারের মোবাইলে কয়েক দফা ফোন করলেও তিনি রিসিব না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার দপ্তরের এক পিয়ন জানান স্যার অপরিচিত কোন নাম্বারের ফোন রিসিব করেন না।