বিচারহীনতা ও স্বজন প্রীতির শীর্ষে অগ্রণী ব্যাংক
এজিএম সালমা আক্তার ধরাছোঁয়ার বাইরে
অগ্রণী ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বজনপ্রীতি, আত্মীয় প্রীতি,অর্থ প্রীতির কারণে তা ধামাচাপা পরে যাচ্ছে হর হামেশাই। ঋণ প্রদানে নিয়ম লংঘন, অর্থ আত্মসাৎ, এবং জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন সহ একাধিক তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের পরও কর্তৃপক্ষ অপরাধীকে কোন শাস্তি প্রদান না করে বরং আরো সাহস দিয়ে অন্যায়কে বাহাবা দিচ্ছেন বলেই প্রতিমান হয়।
অগ্রণী ব্যাংকের কর্তা ব্যক্তিদের অর্থলোভ, স্বজনপ্রীতি ,আত্মীয় প্রীতি, এলাকা প্রীতি এবং দল প্রীতির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক ঋণ প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে অন্যতম। প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আত্মীয়করণের মাধ্যমে নিয়ম না মেনে ঋণ বিতরণ করার সাথে জড়িত উক্ত ব্যাংকের শাখা প্রধান সহ শীর্ষ কর্মকর্তারাও ।
যার ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঋণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংকের ১৯টি শাখা থেকে ৯০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণে অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের ঘটনা উদঘাটিত হওয়া মাত্রই জড়িত নির্বাহী কর্মকর্তা/ কর্মকর্তা/ কর্মচারীকে প্রাথমিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করে অগ্রণী ব্যাংক পি এল সি কর্মচারী চাকুরি প্রবিধানমালা-২০০৮ এর প্রযোজ্য ধারা মোতাবেক শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যার পত্র নম্বর এইচআরপিডিওডি /ওসিএস-২/ নিঃপঃ/ ৮৩/২০২৫। তবে রাজধানীর শান্তিনগর শাখার সাবেক এজিএম সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে উক্ত আইন প্রয়োগ না হাওয়ার মূল কারণ স্বজন প্রীতি, আত্মীয় প্রীতি, এলাকা প্রীতি কাজ করেছে বলে জানা যায় ।
উল্লেখ্য যে গত ২৯ জুন ২০২৫ ”অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি টাকা ঋণ দিলেন এজিএম সালমা আক্তার অগ্রণী ব্যাংক শান্তিনগর শাখা”শিরোনামে দৈনিক আজকের সংবাদ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল,মেসার্স ঔশী এন্টারপ্রাইজ ৭১/৭২ আজিজ সুপার মার্কেট শাহবাগ ঢাকা, প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোঃ শাজাহান হাওলাদার । তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের নামে সিসি হাইপো ঋণের আবেদন করলে ১১ /৪/ ২০২২ ইং তারিখ প্রথম ঋণ আবেদনের মন্জুরী গৃহীত হয়। উক্ত ঋণটি প্রথম মন্জুরী কালীন শাখা প্রধান ছিলেন সালমা আক্তার, এজিএম অগ্রণী ব্যাংক শান্তিনগর শাখা।
বর্তমানে উক্ত ঋণটি অনাদায়ী (১কোটি ৭.১৭) টাকা ,যা নবায়নযোগ্য নয় বলে জানা যায়। সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে আসে , ঔশী এন্টারপ্রাইজ যার সত্তাধিকারী মোঃ শাহজাহান হাওলাদার, ৭১/৭২ আজিজ সুপার মার্কেট ঢাকা, এই ঠিকানায় উক্ত প্রতিষ্ঠার নামে কোন প্রতিষ্ঠান কখনো ছিলনা। উক্ত ঠিকানায় ইশা এন্টারপ্রাইজ (পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা) যার স্বত্বাধিকারী মোঃ এমদাদ হোসেন ২০০৬ সাল থেকে অদ্যবদি ব্যাবসা চালিয়ে আসছে । যার সাথে উপরোক্ত ঔশী এন্টারপ্রাইজের কোন সম্পৃক্ততা বা মালিকানা নেই।
ঋণ নবায়নের আবেদনের সাথে সংযুক্ত ট্রেড লাইসেন্স, দোকান ভাড়ার চুক্তিনামা, দোকানের মালিক সমুদয় বিষয় সঠিক নয় মর্মে সরেজমিনে জানা যায়। মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন কাগজপত্রের বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে এজিএম সালমা আক্তার অবগত থাকার পরও কোটি টাকা ঋণ পায় অস্তিত্বহীন মেসার্স ঔশী এন্টারপ্রাইজ।
উক্ত প্রতিবেদন তৈরি করার পর জানা যায় সালমা আক্তার ও ঐশী এন্টারপ্রাইজের মালিক পূর্ব পরিচিত এবং তাদের মধ্যে একটি ব্যবসায়িক সখ্যতা গড়ে উঠেছে অনেক আগেই। যার ফলে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকে কোটি টাকা অবৈধ পন্থায় ঋণ দেন এজিএম সালমা আক্তার। উক্ত প্রতিবেদনটি দিনের আলোর মত স্বচ্ছ যা অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি জানে এবং তার সাথে অগ্রণী ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত বলেও প্রমাণ রয়েছে প্রতিবেদকের কাছে।
তথ্যসূত্রে উঠে আসে ডিএমডি আবুল বাশার এবং সালমা আক্তারের গ্রামের বাড়ি এক জায়গায় হওয়াতে সালমাকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে কাজ করছেন ডিএমডি আবুল বাশার।সালমার সমস্ত পাপ মোচনের একমাত্র উপায় তিনি।এজিএম সালমা আক্তার বিধি বহির্ভূতভাবে কাজ করলেও তার বিষয়ে নির্বাক অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তথ্যসুত্রে আরো উঠে, আসে ডিএমডি আবুল বাশার এবং সালমা আক্তার বিগত সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ডাঃ দীপু মনি এবং মায়া চৌধুরীর খুব কাছের লোক হওয়ায় সকল অন্যায় অবিচারের ঊর্ধ্বে তারা।