আবারও ঋণ পেতে নানা মহলে তদবির
অগ্রণী ব্যাংকের ২৩৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়নি ডিকে নিটওয়্যার- ব্যাংকের মামলা
রাষ্ট্রায়ত্ব অগ্রণী ব্যাংক গ্রীন রোড শাখা থেকে নেয়া ২৩৩ কোটি টাকা ঋণের কোন টাকাই পরিশোধ করেনি ডিকে নিটওয়্যার লিমিটেড। ঋণ পরিশোধের জন্য কয়েক দফা ডাউনপেমেন্টের তারিখ পরিবর্তন করলেও প্রতিবারই টাকা দিতে অনীহা দেখিয়েছে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটি। অবশেষে টাকা উদ্ধারে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলার দ্বারস্থ হয়েছে অগ্রণী ব্যাংক।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ঋণের ২৩৩ কোটি টাকা উদ্ধারে ডিকে নিটওয়্যারের বিরুদ্ধে ফোজদারি আদালতে চেক ডিজঅনার মামলা করেছে অগ্রণী ব্যাংক। এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানা গেছে। তবে মর্টগেজ স¤পদের চেয়ে কয়েকগুণ টাকা ঋণ নেয়ায় মামলার মাধ্যমে ব্যাংকের পাওনা স¤পূর্ণ আদায় সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা।
জানা গেছে, বেতন-ভাতা বকেয়া ও শ্রমিক অসন্তোষের অজুহাতে ২০২৩ সালের মে মাসে ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেয় ডিকে নিটওয়্যারের মালিকপক্ষ। ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকা অবস্থায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজসে একই বছরের নভেম্বরে ডিমান্ড লোনের নামে ৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ডিকে।
এখানেই থেমে থাকেনি লুটপাট। ২০২৪ সালে আবারো ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকার ডিমান্ড লোন মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। অথচ প্রতিষ্ঠানটির কাছে ২০২৩ সালের পূর্বে প্রায় দেড় শ' কোটি টাকা বকেয়া রেখেই নতুন করে পরবর্তী ঋণ প্রদান করা হয় যা ব্যাংকিং আইনের পরিপন্থী। জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নেয়া ঋণের এসব টাকা প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধাররা বিদেশে পাচার করেছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। এত কিছুর পরেও ডিকে'র চেয়ারম্যান একিউএম জাহিদ নামমাত্র ডাউনপেমেন্ট দিয়ে নতুন করে মোটা অংকের ঋণ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংকসহ বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন বলেও সূত্রটি জানিয়েছে ।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ২০২২ সালে ঢাকার আশুলিয়ায় ১ কোটি ৯৬ লাখ পার্কিং ও ফ্যাক্টরির ভাড়ার টাকা না দিয়ে ওয়্যারহাউস মালিককে হয়রানী ও প্রতারণার অভিযোগে ডিকে'র চেয়ারম্যান একিউএম জাহিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (যার নাম্বার-১১৮১) করেন ভুক্তভোগী মোর্শেদ আলম ভূইয়া। মোর্শেদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, জাহিদের কাছে পার্কিং ও ফ্যাক্টরির জন্য মাসিক ভাড়া চুক্তি করেন তিনি। কয়েক মাস পর ডিকে'র চেয়ারম্যান গড়িমসি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দেন। শেষ পর্যন্ত বকেয়া ভাড়ার অংক দাঁড়ায় ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
এসব বিষয়ে ডিকে গ্রুপের চেয়ারম্যান একিউএম জাহিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন না ধরে এই প্রতিবেদকের হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তায় জানান, 'অগ্রণী ব্যাংকে মিটিংয়ে আছি, পরে ফোন দিচ্ছি'। পরবর্তীতে তার পক্ষ নিয়ে একটি দৈনিক পত্রিকার একজন স¤পাদক এই প্রতিবেদককে ফোন দিয়ে ডিকে'র বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অগ্রণী ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান ডিজিএম শাহনাজ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি কলটি রিসিভ করেননি।