তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কর্মকর্তাদের অপতৎপরতা
চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের পেকুয়ায় ৩০ হাজার আকাশমনি গাছ কর্তনের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে বনবিভাগ
চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জাধীন পেকুয়ায় বন কর্মকর্তার যোগসাজশে ৩০ হাজার আকাশমনি গাছ কর্তনের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করেছে কিছু স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা। এ ঘটনায় তদন্তে নেমেছে বন বিভাগ।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক কার্যালয় অফিস আদেশে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ বন সংরক্ষক এম এ হাসানকে। কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে তদন্তের জন্য মাঠে নেমেছে।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ পরিদর্শন করেছেন তদন্ত কমিটি। সাবাড় করা গাছ গণনা করে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা, বারবাকয়া বিট কর্মকর্তা ও টইটং বিট কর্মকর্তা সহ কয়েক জনকে।
সামাজিক বনায়নের কয়েকজন উপকারভোগী ( নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, গাছ সাবাড় করা যে আলামত সেগুলি নষ্ট করার চেষ্টা করছে অভিযুক্তরা। বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা কিছু চহ্নিত বনদস্যুদের তদন্ত কমিটির কাছে হাজির করেন।তদন্ত কমিটির নিকট কাটা গাছ গুলো ৫ই আগস্টের পর সরকার পতনের পর অস্থিতিশীল অবস্থায় গাছ কাটা গেছে এরকম বক্তব্য দিতে বলা হয়। তদন্ত কমিটিকে অভিযোগ স্থলের জায়গাগুলিতে না নিয়ে একট নির্দিষ্ট সীমানায় পরিদর্শন করানো হয়। এছাড়াও যোগীর ছাড়া, দু’ছড়ি, নাপিতার ছড়া,ডেনার ছড়া,বদির জিরি নামক যে সকল এলাকায় বেশি গাছ সাবাড় করা হয়েছে সে সকল এলাকায় তদন্ত কমিটিকে নেওয়া হয় নাই। উপকারভোগীরা আরো বলেন, আমরা তদন্ত কমিটিকে অনুরোধ করছি তারা যদি অভিযোগের সত্যতা বের করতে চাই তাহলে অভিযুক্ত ঘটনা স্থলগুলি পরিদর্শন করতে হবে। অভিযুক্তরা আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করতেছে, এগুলোর দিকে নজর রাখতে হবে। তারা ক্ষোভের সাথে বলেন যে মুসলেমউদ্দীন এই ব্যাপক গাছ কাটার সাথে জড়িত তাকে নিয়েই তদন্ত টিম বাগান পরিদর্শন করেছে।তার ভয়ে সাধারন উপকারভোগীরা তদন্ত কমিটির কাছে মুখ খোলার সাহস পাই নাই।
এছাড়া তদন্ত কমিটি পরিদর্শনে গিয়ে আকাশমনি গাছের লগ স্তুপাকারে দেখে সেগুলি জব্দ করে বিট অফিস হেফাজতে নিয়ে যাবার নির্দেশনা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টৈটং বিট কর্মকর্তা।
তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ বন সংরক্ষক এম এ হাসান বলেন, আমরা কাল থেকে গাছ কর্তনের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছি, আমি গতকাল তক্তার ছড়া পরিদর্শন করেছি, কত গুলো গাছ কর্তন করা হয়েছে এগুলো গণনার জন্য রেঞ্জ কর্মকর্তা ও আরো কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়েছি। তারা যেন গোপন করতে না পারে এ জন্য কিছু ডিভাইস দিয়েছি গাছ গণনায় যেন ফাঁকিবাজি করতে না পারে। তিন দিন পর আমরা আবারও পরিদর্শন করব। তখন ফাইনালি বলতে পারব।
উল্ল্যেখ : গত (২৯জুন) রেঞ্জ কর্মকর্তার যোগসাজশে ৮০হেক্টর বাগান থেকে প্রায় ৩০ হাজার আকাশ মনি গাছ কর্তন করে বনদস্যুরা এ ঘটনায় বেশ কিছু সংবাদ পত্রে সংবাদ প্রকাশ করে। এর জের বনবিভাগক তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে গাছ গণনা,বাগানের আশে-পাশের লোকজনকে তদন্ত টিম যাওয়ার আগে বিট অফসারের সরিয়ে দেওয়া, চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের ডিএফও আব্দুল্লা আল মামুন এবং তদন্ত কমিটিকে ম্যানেজ করার নামে গাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে টইটং এর সচেতন নাগরিকেরা তদন্তের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছে। অনেকে মনে করছে তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে উর্দধতন কর্তৃপক্ষ পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে।