বিপর্যয়ের মুখে বান্দরবানের রিজার্ভ ফরেস্ট-১
গাছ পাচারকারীদের কাছ থেকে সিএফ ও ডিএফও’র নামে চাঁদা আদায় করছে ফরেস্ট গার্ড নাছিরুল আলম চৌধুরী
গিরগিটির মতন রং বদলিয়ে চট্টগ্রাম সার্কেলে দূর্নীতির গডফাদার হয়ে উঠেছেনবান্দরবান বন বিভাগের ফরেস্ট গার্ড মোঃ নাছিরুল আলম চৌধুরী। দীর্ঘ প্রায় ২ যগ ধরে এই সার্কেলে কর্মরত থেকে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে সক্ষতা গড়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জিম্মি করে বন উজাড়, কাঠ পাচারে সক্রিয় ভূমিকা রেখে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও দেখার কেউ নেই। প্রতিনিয়ত রিজার্ভ ফরেস্ট উজাড় করে গাছ পাচারকারীদের কাছ থেকে ডিএফও এবং সিএফ’র নামে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেও থেকে গেছেন ধরা ছোয়ার বাইরে।
ফরেস্ট গার্ড মোঃ নাছিরুল আলম চৌধুরী একসময় বাশখালীর বিএনপি নেতা জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর পোষ্যপুত্র পরিচয়ে বন বিভাগের চট্টগ্রাম সার্কেল দাপিয়ে বেড়িয়েছে। তার নিয়ন্ত্রনে ফরেস্ট গার্ড, ফরেস্টারদের পোস্টিং করতে বাধ্য হত চট্টগ্রাম সার্কেলের বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তাগন। এরপর আওয়ামী লীগ আমলে তিনি গিরগিটির মতন রং বদলিয়ে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী, নাছির উদ্দিনদের অনুসারী পরিচয়ে তার অপকর্ম চালিয়ে গেছেন। বদলী বানিজ্য, ভূমি দখল, বনের গাছ কেটে পাচারসহ এমন কোন অপকর্ম নাই যে তিনি করতেন না।
৫ আগস্টের পর পুনরায় তিনি রং পাল্টিয়ে শিবির নেতা বলে তিনি পরিচয় দিচ্ছেন। জামায়াত নেতারা তার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তিনি প্রায় সময়ই তার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। আবারো তার বদলী বানিজ্য শুরু হয়েছে। বর্তমান সিএফ মোল্লা রেজাউল করিম তার কথায় উঠেন বসেন বলে তিনি সবার সামনে গল্প করে বেড়ান। প্রায় সময় সিএফ সাহেবের বাসায় তিনি ফরেস্ট গার্ড, ফরেসস্টারদের বদলির নীল নকশা তৈরী করেন বলেও দম্ভ করে বলে থাকেন। জানা যায় বন্যপ্রানী পাচার, সংরক্ষিত বনের গাছ পাচার, বনের ভূমি বিক্রি, বদলী বানিজ্য, চেক স্টেশন, রেঞ্জ, ডিভিশন থেকে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা কালেকশন এ মুল হোতা ফরেস্ট গার্ড নাছিরুল আলম চৌধুরী তার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট। যেখানে ১ রেঞ্জার ও ৪ ফরেস্টার রয়েছে। যারা সার্কেলের বিভিন্ন বন বিভাগে কর্মরত।
তিনি চট্টগ্রাম সার্কেলে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ, চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের লোভনীয় পোস্টিং এ থেকেছেন। এখন তিনি বান্দরবান বন বিভাগে চাকুরী করছেন। বান্দরবান বন বিভাগে ২ বছরের পোস্টিং হলেও ক্ষমতার দাপটে তিনি ৩ বছর ৫ মাস হলো এখনও বহাল তবিয়তে আছেন। তিনি যখন চাবেন তখন আবারো চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিন বন বিভাগে যাবেন এভাবেই দাম্ভিকতার সহিত বলে বেড়ান।
ফরেস্ট গার্ড নাছিরুল আলম চৌধুরী বান্দরবান বন বিভাগের সুয়ালক চেক স্টেশনে নিয়ম বর্হিভূতভাবে এক বছর ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার সময় নাছিরুল আলমের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীর অভিযোগ উঠলে তড়িঘড়ি করে বান্দরবান ডিএফও আব্দুর রহমান তাকে সেকদু রেঞ্জে বদলী করেন। ৮ মাস যেতে না যেতেই তিনি ক্ষমতার জোরে পত্রমূলে আবারো লোভনীয় পোস্টিং সদর রেঞ্জে অর্ডার করিয়ে নেন। এখানে এসে তিনি আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠেন। ক্ষমতার জোরে তিনি চট্টগ্রামে থাকেন আর মাঝে মাঝে এসে টিপির গাড়ী লোডিং এ সহযোগী হিসেবে থাকেন আর গাড়ী প্রতি ১০,০০০/- করে নেন। তিনি বান্দরবান থেকে চোরাই পথে কাঠ পাচারের সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।
সদর রেঞ্জে ১ বছরের পোস্টিং হলেও তিনি অফিস সহকারী শুসান্ত কুমার সরকারকে মাসিক টাকার বিনিময়ে বাগিয়ে বহাল তবিয়তে অনিয়মের রাজ্য কায়েম করেছেন। তার মাধ্যমে অন্য ফরেস্ট গার্ডও সদর রেঞ্জে দেড় বছর কেউবা ২ বছর সময় পার করছেন আর শুসান্ত কুমার সরকারকে মাসিক ভিত্তিতে ম্যানেজ করেন। এদিকে বান্দরবান বন বিভাগের মাঠ পর্যায়ে কোন ফরেস্ট গার্ড, বাগান মালি নেই বললেই চলে। একদিকে বন ধংস হয়ে যাচ্ছে আর দিকে ফরেস্ট গার্ডরা বান্দরবান শহরে রাজকীয়ভাবে বসবাস করছেন। কয়েকদিন আগেও সিএফ দপ্তর থেকে ফরেস্ট গার্ডদের অর্ডার করলেও দীর্ঘ ২ যুগ একই সার্কেলে থাকা ফরেস্ট গার্ড মোঃ নাছিরুল আলম চৌধুরী এর বদলী অর্ডার না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিধি বহির্ভুতভাবে টাকার বিনিময়ে ফরেস্টার, ফরেস্ট গার্ডদের সিরিয়াল ব্রেক করে বদলীযোগ্য ফরেস্টার ফরেস্ট গার্ডদের বদলী না করে পরবর্তী তালিকার নিরীহ ফরেস্টার ফরেস্ট গার্ডদের বদলী করেন।
এব্যাপারে মাঠপর্যায়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বৈষ্যম্যের স্বীকার ফরেস্টার ফরেস্ট গার্ডরা দূর্নীতি দমন কমিশন, বন উপদেষ্টা ও প্রধান বন সংরক্ষক এর নিকট ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ফরেস্টার, ফরেস্ট গার্ড উল্লেখ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছক একজন ফরেস্টার বলেন, মেয়াদ পুর্তি না হবার আগেও অনেক গার্ড, ফরেস্টারকে বদলী করা হলেও নাসিরুল আলমকে দীর্ঘ ৪ বছর অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে বান্দরবান বন বিভাগে বহাল রাখা হয়েছে শুধু মাত্র উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নামে অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ী ও ভুয়া টিপির মাধ্যমে সংরক্ষিত বনাঞ্চাল উজাড়ের সাথে জড়িতদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌছে দেয়ার জন্য।
এ ব্যাপারে সিএফ মোল্লা রেজাউল করিম, ডিএফও আব্দুর রহমান ও ফরেস্ট গার্ড নাছিরুল আলম চৌধুরী এর বক্তব্য জানতে একাধিক বার ফোন করার পরেও তারা রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।