গ্রাম থেকে পালিয়ে আসা আব্দুস সাত্তার এখন বিএনপি নেতা
সাবেক এমপি ডাঃ মনসুর ও দুর্গাপুর উপজেলাধীন ৫নং ঝালুকা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী’র সাথে আব্দুস ছাত্তার
আব্দুস সাত্তার রাজশাহী পুঠিয়া-দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি সব সময়ই সরকারি দলের লোক। দুর্গাপুরে সাত্তারের ভয়ংকর রাম রাজত্বে বাঘে মহিষে যেন এক ঘাটে পানি খায়। আওয়ামী সরকারের সময় প্রভাবশালী সব নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা যেন তার রাজত্বকে আরও বেশী বিস্তৃত করেছিলো। কিন্ত ধমের্র কল বাতাসে নড়ে। সাত্তারের দীঘর্দিনের দুর্বেধ্য ঘরকে নাড়িয়ে দিলো দুর্গাপুরবাসী।
অপকর্মে লিপ্ত সাত্তার নারী নিয়ে ধরা পরলো। সম্মান বাচাতে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। তার পালিয়ে আসাটা ঐ সময়ে এলাকায় খুব চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঢাকায় এসে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে শতকোটি টাকার মালিক হয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন সাত্তার। বতর্মানে বাড্ডা থানা বিএনপির ২১ নং ওয়ার্ডের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে বাড্ডা থানা বিএনপির পক্ষ থেকে তিব্র নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। যেখানে বলা হয়, আব্দুস সাত্তার একজন আওয়ামীলীগ নেতা, ছাত্র আন্দোলনের পর ভোল পাল্টিয়ে নিজেকে নব্য বিএনপি নেতা হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছে। উক্ত নোটিশে আব্দুস সাত্তারের বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানানো হয়। আওয়ামী সরকারের সময়ে প্রভাবশালী নেতাদের সাথে তার সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট। খোজ নিয়ে জানা যায়, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি।
তৎকালীন হাসিনা সরকারের আমলে দুজন সাবেক এমপি ডাঃ মনসুর ও আব্দুল ওয়াদুদ এর সহযোগীতায় এবং স্থানীয় ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতাদের ব্যবহার করে তিনি বহু সরকারী খাস সম্পত্তি নিজ কব্জায় রেখেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় জনগন জনস্বার্থে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দুর্গাপুর রাজশাহী বরাবর লীজ বাতিলের আবেদন করেন, কিন্ত তৎকালীন সরকারের এমপি মন্ত্রীদের প্রভাবে অর্থের বিনীময়ে তা বলবৎ রাখেন নির্বাহী অফিসার।
এছাড়া বর্মানে ঢাকায় তার নামে-বেনামে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে। রাজশাহীতে তার ১০০ বিঘার উপরে সম্পত্তি রয়েছে। শুধু ৩০ বিঘা জায়গার উপরে পুকুর রয়েছে। জুলাই আগষ্টে ছাত্র জনতার আন্দোলনকে দমাতে প্রকাশ্যে সহযোগীতা ও আর্থিক যোগানদাতা হিসেবে ভাটারা থানায় তার নামে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের হয়। মামলা নম্বর ৩২৩/২৫, অনুসন্ধানে উঠে আসে, ৫ই আগষ্টের পর ভোল পাল্টে বিএনপির রাজনীতির ছত্রছায়ায় নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
রাজশাহীর পুঠিয়াতে নির্বাচনে প্রস্তুতি নিতে নিজেকে শিল্পপতি, সমাজসেবক হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে ব্যানার ফেষ্টুনে সয়লাব করেছেন। নিজ এলাকায় বিভিন্ন সভা সেমিনারে লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করছেন তিনি। সমর্থক ও এলাকা বাসীকে খুশি রাখার জন্য একাধিক গরু জবাই করে ভোজন বিলাসের আয়োজন করছেন। এই প্রতিবেদক আব্দুস সাত্তারের মুঠোফোনে ফোন দিয়ে বিএনপিতে তার আত্মপ্রকাশ ও নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিবেদককে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিয়ে নিজের ক্ষমতা জাহির করেন তিনি।