দুদক মামলায় গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক আসামী সাইদুল ইসলাম

জ্ঞাত আয়বহির্ভিূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই মামলায় সাক্ষ্য দিতে একাধিকবার ডাকা হলেও যাননি।

দুদক মামলায় গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক আসামী সাইদুল ইসলাম

জ্ঞাত আয়বহির্ভিূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই মামলায় সাক্ষ্য দিতে একাধিকবার ডাকা হলেও যাননি। বেশ কিছুদিন ধরে কর্মস্থলেও আসছেন না চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক সাইদুল ইসলাম। ফলে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে কর্মস্থলে না আসায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

জানা গেছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২০ মে মামলাটি করে দুদক। মামলা তদন্ত করছেন ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাসুদ। মামলায় ২০০৪ সালের ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১৮৬০-এর ১০৯ ধারাসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাইদুল ইসলাম ও স্ত্রী শায়লা আক্তারের স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য একাধিকবার পত্র দেওয়া হলেও সাড়া দেননি। গত বছরের ৫ নভেম্বর এক চিঠিতে আসামির প্রতি নোটিশ জারি করতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। অধিদপ্তর থেকে নোটিশ জারি না করায় এবং বক্তব্য দিতে আসামি সাইদুল ইসলাম হাজির না হওয়ায় গত ৩ ফেব্রুয়ারি পুনরায় চিঠি দেন তদন্ত কর্মকর্তা।

ওই চিঠির পর ৮ ফেব্রুয়ারি সাইদুল ইসলামকে বক্তব্য দিতে নোটিশ জারি করেন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এটিএম আবু আসাদ। এতে বলা হয়েছে, ‘স্মারকে জারিকৃত নোটিশে উল্লিখিত তারিখ, সময় ও স্থানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

সাইদুল ও তার স্ত্রীর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ : জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাইদুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী শায়লা আক্তারের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম (৫০) ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। তার নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ১৯ লাখ ৪ হাজার ২৪০ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। একই মামলায় তার স্ত্রী শায়লা আক্তারের বিরুদ্ধেও ১ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ৮৯৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। স্বামী-স্ত্রী দুজনে পরস্পর যোগসাজশে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার ১৩৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন, হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, সাইদুল ইসলামের নামে পাবনার বেড়া উপজেলায় একাধিক সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয়কৃত জমি, কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় যৌথ মালিকানাধীন জমির অংশ, ঢাকার ডেমরা ও মোহাম্মদপুর এলাকায় জমি ও জমির অংশসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া তার স্ত্রী শায়লা আক্তারের নামে পাবনা, নরসিংদী, গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জমি এবং মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে কার পার্কিংসহ প্রায় ১ হাজার ৮৯৯ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটসহ একাধিক স্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য উঠে আসে তদন্তে।

এসব বিবেচনায় নিয়ে আদালত দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ (সংশোধিত)-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী, সাইদুল ইসলাম ও শায়লা আক্তারের নামে থাকা আবেদনে বর্ণিত সব স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়গুলো এবং দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগকে রিসিভার হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত।

ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা : সাইদুল ইসলাম কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় নানা সমস্যা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাবঞ্চিত মানুষ। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এসব মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গি বাজার পদুয়া থেকে আসা মাহমুদুল্লাহ আজকের সংবাদকে বলেন, পাসপোর্ট তৈরির জন্য আবেদন করেছি। নামের একটি ছোট্ট ভুলের জন্য কাজ হচ্ছে না। এ সমস্যার সমাধান করতে হলে পরিচালকের সিদ্ধান্ত দরকার। কিন্তু কয়েক দিন ধরে এসেও তাকে পাচ্ছি না।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অফিসপ্রধান না থাকায় সমস্যার মধ্যে আছেন তারাও। একজন উপসহকারী পরিচালক থাকলেও সব সমস্যার সমাধান দিতে পারছেন না তিনি। তবে পরিচালক কর্মস্থলে আসছেন না কেন? সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি কেউ।