ছাত্রদল নেতাসহ ৩০-৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জামালপুরে জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা নামের এক নারীর সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ সহ ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী।বাধা দেওয়ায় গলা চেপে নারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা।

ছাত্রদল নেতাসহ ৩০-৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জামালপুরে জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা নামের এক নারীর সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ সহ ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী।বাধা দেওয়ায় গলা চেপে নারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা। ছাত্রদলের নেতা সহ প্রায় ৩৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী নারী।মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য উক্ত জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যাকে বিভিন্নভাবে ফোনে এবং সরাসরি চাপ প্রয়োগ করছে আসামিরা।রোববার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফয়সল মো. আতিক।

অনুসন্ধানে উঠে আসে, জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা তার বাড়ির রাস্তা বাবদ  উক্ত জমিটি ক্রয় করেন । অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কয়েকদিন আগে  ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের কিছু লোক জমি তাদের বলে দাবি করে। এ বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা বন্যার কথা অগ্রাহ্য করে জমি জবর দখলের চেষ্টা চালায় । অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে  ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগ সহ যারা জমি জবর দখলের চেষ্টা করেছিল তারা প্রত্যেকেই ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল করিম সুমনের আত্মীয় এবং তার ছত্রছায়ায় তারা এখনো এলাকাতে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার ভুক্তভোগী বন্যা বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় সুমনসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

গত বৃহস্পতিবার শহরের রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন শাহপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে জমি বেদখল করা নিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আরিফুল আলম চিকু ও তার লোকজন বাড়িঘর ভাঙচুর করে জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় বিষয়টি জাহাঙ্গীরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা থানায় অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আরিফুল আলম চিকুকে আটক করে। পরে তাকে ভ্যানে উঠিয়ে থানায় নিয়ে আসতে চাইলে চিকুর মামাতো ভাই জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল করিম সুমন লোকজন নিয়ে চিকুকে ছাড়িয়ে নেন। বিষয়টি নিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা প্রতিবাদ করতে গেলে সুমন তার গলা চেপে ধরে মেরে ফেলার হুমকি দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমার ক্রয়কৃত জমি যুবলীগ নেতা চিকু, ছাত্রদল নেতা সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল করিম সুমনকে আর্থিকভাবে প্রভাবিত করে তার পক্ষে নিয়ে অবৈধ ভাবে বেদখল করে সীমানা প্রাচীর নিমার্ণের চেষ্টা চালায়। পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করার পর পুলিশ চিকুকে আটক করে। ছাত্রদল নেতা মনজুরুল করিম সুমন প্রভাব দেখিয়ে আসামি চিকুকে ছিনিয়ে নেয়। মামলা করার পর তা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য অব্যাহত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমাদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। উক্ত ঘটনা সম্পর্কে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল করিম সুমন  সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বন্যার প্লটের সঙ্গে আমার ফুফাতো ভাই চিকু ৭ থেকে ৮ বছর আগে এক দশমিক ৩৭ পয়েন্ট জমি ক্রয় করে স্থানীয় হীরার কাছ থেকে। ৩৭ পয়েন্ট জমি নিয়ে চিকু এবং বন্যার মধ্যে বিভেদ চলছিল। ঘটনার দিন আমি বিচারকের ভূমিকায় ছিলাম। তবে পুলিশ এসে চিকুকে আটক করলে স্থানীয়রা তাকে ছিনিয়ে নেয়। বন্যার গলা চেপে প্রাণনাশের হুমকি সত্য নয়।

গাড়ি থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি স্বীকার করে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফয়সল মো. আতিক  সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, জমি নিয়ে মারামারির ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। গাড়ি থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের পর তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়ে একজনকে আটক করা হয়েছিলো। কিন্তু ওই ব্যক্তি অপরাধী না হওয়ায় তাকে পুলিশই ছেড়ে দিয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।