গণপূর্তে প্রকৌশলী মো: আবু তালেবের ঠিকাদারের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে বিল পরিশোধের অভিযোগ
গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-৮ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আবু তালেব ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বিভিন্ন মেরামতের জন্য ৫ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছিলেন।
গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-৮ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আবু তালেব ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বিভিন্ন মেরামতের জন্য ৫ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছে এই বরাদ্দের টাকা কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে সম্পূর্ন বিল পরিশোধ করেছেন মো: আবু তালেব। তিনি ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অর্থ বছরের শেষ দিকে কোন প্রাক্কলন অনুমোদন হওয়ার পর দরপত্র আহবান করে সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভব নয়। তার পরও অর্থ বছর শেষ হওয়ায় কাজ শেষ দেখাতে হয়েছে জুনের মধ্যে। তা না করলে বরাদ্দ অর্থ সরকারের কোষাগারে ফেরত যাবে। এ কারণে বেশির ভাগ নির্বাহী প্রকৌশলীই গোঁজামিল দিয়ে বা কাজ না করেই কাগজে কলমে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারকে বিল দিয়ে দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এই অর্থ বছরের মার্চ মাসে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে প্রেরিত এক স্মারকে দেখা যায়, মো: আবু তালেব ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ পেয়ছেন ৫ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এই বরাদ্দে ঢাকার মহাখালীস্থ জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল মেরামতের জন্য ৩৬ লাখ ১২ হাজার টাকার কাজ, ঢাকার মহাখালীস্থ LEDCR মেরামতের জন্য ৩০ লাখ টাকার কাজ, ঢাকার মহাখালীস্থ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার মেরামতের জন্য ১৯ লাখ ৩০ হাজার টাকার কাজ, ঢাকার মহাখালীস্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মেরামতের জন্য ১৭ লাখ টাকার কাজ, ঢাকার মহাখালীস্থ কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল মেরামতের জন্য ১২ লাখ টাকার কাজ, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ঢাকার মহাখালী মেরামতের জন্য ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকার কাজ, ঢাকার মহাখালীস্থ সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচী (ইপিআই) ভবন মেরামতের জন্য ৩৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার কাজ, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতাল মেরামতের জন্য ৬৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার কাজ, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল মেরামতের জন্য ১৯ লাখ টাকার কাজ, ঢাকার মহাখালীস্থ জাতীয় এ্যাজমা সেন্টার মেরামতের জন্য ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার কাজ, ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিডার ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতাল মেরামতের জন্য ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার কাজ, জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) মেরামতের জন্য ৩৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার কাজ, ঢাকার মহাখালীস্থ জনস্বাস্থ্য ইনষ্টিটিউট মেরামতের জন্য ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকার কাজ, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল মেরামতের জন্য ১৫ লাখ ২৮ হাজার টাকার কাজ, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার কাজ, এবং মহাখালীস্থ ট্রান্সপোর্ট ইকুইপমেন্ট মেইটেন্যান্স অর্গানাইজেশন (টেমো) ভবন মেরামতের জন্য ৯ লাখ টাকার কাজ রয়েছে।
চিঠিতে দেখা যায়, এই বরাদ্দের কাজ শেষ করে বিল পরিশোধ করার জন্য গত ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেধে দেওয়া ছিল। এই সময়ের মধ্যে কাজ সম্পাদন করে বিল পরিশোধ না করলে বরাদ্দকৃত অর্থ সরকারের কোষাগারে ফেরত যাবে। এই বরাদ্দকৃত অর্থ যাতে সরকারের কোষাগারে ফেরত না যায় সেইজন্যই কাজ সম্পাদন না করে ৩০ জুনের মধ্যে ঠিকাদারকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করে দিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আবু তালেব। অসম্পন্ন কাজের বিল পরিশোধ করে পরে সেই কাজ সম্পূর্ন সম্পাদন করার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। এতে তিনি ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে।
অভিযোগ আছে মো: আবু তালেব কাজ সম্পন্ন না করেই যে অগ্রীম বিল দিয়েছেন সেটা গোপন রাখার জন্য পরে যখন কাজ সম্পন্ন হয়েছে তখন কাজ সম্পন্নের প্রত্যয়ন পত্র নিয়েছেন। গণপূর্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এইভাবেই প্রায় সকল নির্বাহী প্রকৌশলীই বিল পরিশোধ করে পরে প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে কাজ বৈধ করেন। এভাবে তারা নিজেদের অবৈধ কাজকে বৈধতা দেন।
পিপিআর (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস) অনুযায়ী কাজ সম্পাদন না করে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করার ফলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদার উভয়ের বিরুদ্ধেই বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা সাময়িক বরখাস্ত, আর্থিক জরিমানা, এবং সরকারের রাজস্ব ক্ষতিপূরণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এবিষয়ে ঢাকা গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-৮ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আবু তালেব-এর সাথে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।