এইচ টি ইমামের লোক এলজিইডি মিডিয়া পরামর্শক ফাত্তাহ এখনও বহাল তবিয়তে
- মিডিয়া পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করে শত কোটি টাকার মালিক।
- এলজিইডি'র দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ না করতে আপস এর প্রস্তাব।
- কখনো মামলা, কখনো আইনগত পদক্ষেপের হুমকি।
- ভোল পালটে হয়েছেন আওয়ামী বিরোধী।
- কর্মকর্তাদের তথ্য পাচার করে ব্লাকমেইল।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর- এলজিইডিতে বহাল তবিয়তে আছেন চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া মিডিয়া পরামর্শক মো. আবু ফাত্তাহ। এক সময় আওয়ামী পরিচয় দেয়া এই ব্যক্তি ৫ আগস্টের পর ভোল পালটে হয়েছেন ফ্যাসিস্ট বিরোধী। অথচ এলজিইডিতে তার মোটা অংকের বেতনে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ হয়েছিলো পতিত শেখ হাসিনা সরকারের তৎকালীন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের সুপারিশে। এখানে যোগদানের পূর্বে একটি জাতীয় দৈনিকে সাব-এডিটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
চাকরিতে প্রবেশের পর থেকেই আওয়ামী প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলজিইডিতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন আবু ফাত্তাহ। আওয়ামী তদবিরে নিয়োগ পাওয়ায় ধরাকে সরা জ্ঞান করতে থাকেন তিনি। পুরো আওয়ামী সরকারের আমলে প্রভাব খাঁটিয়ে প্রকল্পে নিয়োগ, টেন্ডারে তদবির, সাংবাদিক ম্যানেজ, কর্মকর্তাদের ব্লাকমেইল করে অল্প সময়েই শত কোটি টাকার মালিক বনে যান এই মিডিয়া পরামর্শক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার বসিলায় তিনি দুটি ফ্লাট কিনেছেন। এছাড়া সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের তিনতলা বাড়ি, গ্রামের বাড়ি মাগুরাডাঙ্গায় আছে ৩০ বিঘা জমিসহ নামে বেনামে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে। এলজিইডিতে শতাধিক লোককে চাকরি দিয়ে কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ভাই, ভগ্নিপতি, আত্মীয়-স্বজনসহ প্রায় ২০ জনকে এলজিইডিতে চাকরি দিয়েছেন আওয়ামী প্রভাব খাঁটিয়ে।
জানা যায়, সাংবাদিক হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করে আতাতের মাধ্যমে নির্দিৃষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেন তিনি। প্রকল্প পরিচালক থেকে শুরু করে সবার কমিশন ঠিক-ঠাক মতো নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বও তার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের জন্য আগারগাঁও এলজিইডি ভবনে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাক্ষাতকার অথবা বক্তব্য নেওয়ার জন্য সাংবাদিক প্রবেশ করলে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে যান। এবং কী বিষয়ে এসেছেন তা জানতে চান। পরে ওই সাংবাদিককে তিনি নিউজ না করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। সংবাদ প্রকাশ না করার শর্তে কখনো কখনো বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব করেন। কখনো তিনি নিজেকে বড় সাংবাদিক দাবী করে প্রভাব বিস্তার করেন। তার নিজের একটি পত্রিকা অফিস আছে এবং তিনি ওই পত্রিকার স¤পাদক বলেও দাবী করেন।
আরো জানা যায়, এলজিইডি ভবনে অপেশাদার বা ভূইফোড় সাংবাদিকদের দৌরাত্ম রয়েছে। ফাত্তাহ তাদের কাছে বিভিন্ন প্রকৌশলীদের দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকার এসব কার্ডধারী পত্রিকার সাংবাদিককে নির্দিষ্ট প্রকৌশলীর কাছে পাঠিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাকে ব্লাকমেইল করেন। পরে দায়িত্ব নিয়ে ওই সাংবাদিককে ম্যানেজ করার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন ফাত্তাহ নিজেই। এটিই মূলত তার মোটা অংকের টাকা রোজগার করার একটি মাধ্যম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডি’র একাধিক প্রকৌশলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফাত্তাহ'র অত্যাচারে ভবনের অনেক প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আতঙ্কে থাকেন বলেও জানিয়েছেন তারা।