এ যেন তারুণ্যের জনস্রোত

এ যেন তারুন্যের জয়গান,‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা’ এই স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর নয়াপল্টন।

এ যেন তারুণ্যের জনস্রোত

এ যেন তারুন্যের জয়গান,‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা’ এই স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর নয়াপল্টন। যদিও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বিভাগীয় তারুণ্যের এ সমাবেশ। কিন্ত  বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে তা বিস্তৃত হয়ে পরে কাকরাইল থেকে আরামবাগ পর্যন্ত।ঢাকা বিভাগের পাশাপাশি দেশের নানা জেলা থেকে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

প্রাণবন্ত পরিবেশে তারুণ্যের এই সমাবেশ ধীরে ধীরে বিশাল মহাসমাবেশে পরিণত হয়।দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই ঢল নামে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীদের। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম বাড়তে বাড়তে রূপ নেয় জনস্রোতে। কারও হাতে ছিল দলীয় পতাকা, কারও হাতে ফেস্টুন ও ব্যানার। অনেকেই দলীয় স্লোগান দিতে দিতে নাচ-গানে সমাবেশে নতুন মাত্রা যোগ করে।

এই যুব সমাবেশের আয়োজন করেছে বিএনপির তিনটি অঙ্গসংগঠন—জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদল। আয়োজকদের ভাষ্য, তরুণদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের অধিকার দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। তাই এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তারা।সমাবেশে উপস্থিত তরুণরা বলেন, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশে গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধারে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে সময়ক্ষেপণ ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব বন্ধের দাবি জানান তারা।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য। যানজট এড়াতে নয়াপল্টনের দুই পাশের সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, তবে যানজট ও পথচারীদের ভোগান্তি ছিল চোখে পড়ার মতো।আজকের সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।এ সময় মঞ্চে বিএনপির স্থায়ী কমিটিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের দাবি, ঢাকা, সিলেট, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ থেকে আসা প্রায় ১৫ লাখ তরুণ এই সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। বক্তারা জানান, এই সমাবেশের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের রাজনৈতিকভাবে উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন। মে মাসজুড়ে দেশজুড়ে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চারটি বিভাগীয় শহর ও রাজধানীসহ মোট আটটি স্থানে সেমিনার ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির নেতারা বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ করা খুবই জরুরি। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার তরুণদের অধিকার ও ভবিষ্যৎকে হরণ করছে। বক্তারা আগামী দিনে আন্দোলনের অগ্রভাগে তরুণদের থাকার আহ্বান জানান।