ইসির আপিল শুনানি: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মান্না ও আযাদীসহ ৫৮ জন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন আরও ৫৮ জন প্রার্থী।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন আরও ৫৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও নাগরিক ঐক্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী। গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে দিনভর শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে শনিবার ৫১ জন এবং গতকাল ৫৮জনসহ সব মিলিয়ে দু’দিনে প্রার্থী ফিরে পেয়েছে ১০৯ জন।
গতকাল আপিল মঞ্জুর হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চাঁদপুর-২ আসনে মোহাস্মদ আব্দুল মুবিন ও জামালপুর-৩ আসনে মো. মুজিবুর রহমান আজাদী। এছাড়া নাগরিক ঐক্যের বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্না ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে মো. নাজমুস সাকিব। এর বাইরে জাতীয় পার্টির কুমিল্লা-১ আসনে সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান, বগুড়া-২ আসনে মো, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, যশোর-৪ আসনে মো. জহুরুল হক, যশোর-৫ এম এ হালিম, যশোর- ৬ আসনে জি এম হাসান ও রাজশাহী-৬ আসনে মো. ইকবাল হোসেন। তাছাড়া এবি পার্টির জয়পুরহাট-২ আসনে সুলতান মো. শামছুজ্জামান, গণফোরামের মাগুরা-১ আসনে মো. মিজানুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা-১ আসনে নুরুল ইসলাম ও বগুড়া-৬ এর আবু নোমান মো. মামুনুর রশিদ মন্ডল, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ঢাকা-১৮ আসনে মিসেস সাবিনা জাবেদ ও ময়মনসিংহ-৪ আসনে মো. হামিদুল ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ঢাকা-১৮ আসনে মফিজুল ইসলাম ও বগুড়া-৫ আসনে কুদরত-ই-সাকলায়েন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির কুড়িগ্রাম-২ আসনে মো. আতিকুর রহমান, গণফোরামের মাগুরা-১ আসনে মো. মিজানুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের ঝালকাঠি-১ আসনে মো. শাহাদৎ হোসেন, নারায়নগঞ্জ-৪ আসনে মো. আরিফ ভুইয়া, নারায়নগঞ্জ-৫ আসনে মো. নাহিদ হোসেন ও চাঁদপুর-১ আসনে মো. এনায়েত হোসেন।
আরও রয়েছে কুমিল্লা-৬ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী কামরুন্নাহার সাথী, মাদারীপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী আমিনুল ইসলাম ও কুমিল্লা-৮ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মো. আলী আশ্রাফ, নেত্রকোনা-১ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী মো. বেলাল হোসেন, হবিগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী মো. শাহিনুর রহমান ও হবিগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন, ঢাকা-৮ আসনে জনতার দলের প্রার্থী মো. গোলাম সারোয়ার এবং ঢাকা-১০ আসনে জনতার দলের প্রার্থী মো. জাকির হোসেনের আপিলও মঞ্জুর হয়েছে।
আপিল শুনানির তথ্যমতে, এদিন সর্বোচ্চ স্বতন্ত্র ২১ জন প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন। স্বতন্ত্রদের মধ্যে হেভিওয়েটরা হলেন সাতক্ষীরা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মো. শহিদুল আলম, বগুড়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম তালু ও রাঙামাটি (২৯৯) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা রয়েছে।
অন্যদিকে রাজশাহী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসা. হাবিবা বেগম, শেরপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াছ উদ্দিন, ভোলা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মিজ তাসলিমা বেগম ও রংপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জয়নুল আবেদিনসহ ০৭জনের আপিল নামঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন।
অনুরুপভাবে, ছয়জনের আবেদন পেন্ডিং রাখা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যরা হলেন, ভোলা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিবুল্যাহ খোকন, যশোর-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ ও ফরিদপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল কাদের মিয়ার আপিল পেন্ডিং রাখা হয়েছে। তাদের যথাযথ কাগজ সাবমিট করার জন্য ১৬ তারিখ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার আপিল শুনানির তালিকার ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর পর্যন্ত মোট ৭০টি আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন এই শুনানি গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৫৮ জনের আবেদন মঞ্জুর করা হয়। এছাড়া, প্রার্থিতা বাতিল বা নামঞ্জুর করার হয়েছে ০৭ জনের এবং স্থগিত বা মুলতবি রাখা হয় ৬টি আবেদন।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার শুনানির প্রথম দিনে ৫২ জনের আপিল আবেদন মঞ্জুর করা হয়। তবে, বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল মঞ্জুর করায় শনিবার প্রার্থিতা ফিরে পান ৫১জন। রোববার পর্যন্ত দুই দিনে মোট ১০৯ জন প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর বিপরীতে মোট ৬৪৫টি আপিল জমা পড়ে। আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই শুনানি কার্যক্রম চলবে।