২ যুগ ধরে বন বিভাগে মাঠ পর্যায়ে পদোন্নতি না দিয়ে নতুন নিয়োগ প্রদানে বাড়ছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা
বন বিভাগ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি টেকনিক্যাল বিভাগ।
বন বিভাগ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি টেকনিক্যাল বিভাগ। বিশ্বের পরিবেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ভুমিকা রাখছেন বর্তমান বাংলাদেশের বন বিভাগ। কিন্ত যারা বছরের পর বছর বন বিভাগকে বিশুদ্ব সেবা দিয়ে যাচ্ছেন মাঠ পযায়ে তাদেরকে একই পদে রেখে নতুন করে নিয়োগ দিচ্ছেন অধিদপ্তর। এতে বন অধিদপ্তরে মাঠ পর্যায়ে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশ। অভিযোগের তীর কিছু সংখ্যক সিনিয়র কর্মকর্তাদের দিকে ।
অনুসন্ধানে যানা যায় বন অধিদপ্তরের ১৯৯৫ সনের নিয়োগবিধি (সংশোধিত) অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের পদোন্নতিযোগ্য পদ ফরেস্ট রেঞ্জার পদে কোন পদোন্নতি প্রদান না করেই বন অধিদপ্তরে পুনরায় ২০১৯ সনে নিয়োগবিধি প্রনয়ন করা হয়েছে।
১৯৯৫ সনের নিয়োগবিধিতে ফরেস্টার পদ থেকে ফরেস্ট রেঞ্জার পদের ১০০% পদোন্নতির সুযোগ ছিল, ২০১৯ সনে প্রনীত বন অধিদপ্তরেরর নিয়োগবিধিতে ফরেস্টার পদ থেকে ফরেস্ট রেঞ্জার পদে ৭০% পদোন্নতির সুযোগ রাখা হয়েছে। অথচ ১৯৯৫ সনের নিয়োগপ্রাপ্তদের পদোন্নতির সুযোগ বঞ্চিত করে পদোন্নতি না দিয়েই ২০১৯ সনে নিয়োগবিধি সংশোধন করে ফরেস্ট রেঞ্জার পদে পদোন্নতির সুযোগ অবগিত করা হয়েছে। আইনগত ভাবে পদোন্নতি প্রত্যাশীদের পদোন্নতি না দিয়ে নিয়োগবিধি পরিবর্তন করে পদোন্নতি বঞ্চিত করার কোন সুযোগ নেই।
বন বিভাগের নিয়মিত পদোন্নতি হচ্ছেনা প্রায় দুই যুগ ধরে কোন প্রধান বন সংরক্ষকই এই ব্যপারে পজেটিভ পদক্ষেপ গ্রহন করেনি বলে জানা যায়। অনুসন্ধানে আরো যানা যায় ডিপ্লোমা ইন ফরেস্ট্রি সরাসরি এবং ইন সার্ভিস সম্পন্ন করা ফরেস্টাররা ডিপ্পোমা স্কেল থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই কারিকুলাম একই মানের লেখাপড়া করে একই যোগ্যতায় বিভিন্ন বিভাগের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ডিপ্লোমা ফরেস্টারগনরা।
এই ব্যপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফরেস্টার জানান যে ডিপার্টমেন্টের কর্তারাই আমাদের পিছনে টেনে ধরে রেখেছে। সততা আর মেধার মুল্যয়ন নেই। স্কেলের জটিলতা নিরসনে অধিদপ্তরের সৎ ইচ্ছে নেই। অনুসন্ধানে আরো জানা যায় তৎকালীন প্রধান বন সংরক্ষক মরহুম মোতালেব মিয়া এবং ইশতিয়াক উদ্দিনের পর আর কোন প্রধান বন সংরক্ষক মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের পদোন্নতি এবং ডিপ্লোমা স্কেল নিয়ে লেখালেখি করেননি।
ইউনুছ আলী প্রথমে লেখালেখি করলেও পরবর্তীতে দ্বিস্তর নিয়োগবিধি ভাঙ্গার প্রস্তার তিনি শুরু করেন। আর সফিউল আলম চৌধুরী মাঠ পর্যায়ে ফরেস্টার এবং বন প্রহরীদের দেখভাল এবং লেখালেখি করেননি পজেটিভলি। এই ব্যপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফরেস্টার জানান শিগগিরই সমস্ত ফরেস্টাররা প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি পেশ করবেন এবং প্রধান বন সংরক্ষককের সাথে দেখা করবেন।
সরাসরি ফরেস্ট রেন্জার নিয়োগ বন্ধ না হলে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন। এদিকে বন প্রহরীদের পদোন্নতি জটিলতা দীর্ঘদিনের। তাদের ভিতরেও হতাশা ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন প্রহরী বলেন মামলার জটিলতায় সিনিয়ররা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।