বন বিভাগে দেশব্যাপী তারুণ্যের উৎসব, ২০২৫ পালনের নামে ৯০ লক্ষ টাকার আনুষ্ঠানিক অপচয়

‎তারুন্যের উৎসব, ২০২৫ পালনের নামে আগামী ২৬ শে জানুয়ারি

বন বিভাগে দেশব্যাপী তারুণ্যের উৎসব, ২০২৫ পালনের নামে ৯০ লক্ষ টাকার আনুষ্ঠানিক অপচয়

‎তারুন্যের উৎসব ২০২৫ পালনের নামে আগামী ২৬ শে জানুয়ারি তারিখে দেশব্যাপী ৫০০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিতে ৫০ টি করে মোট ২.৫ লক্ষ বিবিধ বৃক্ষের চারা রোপনের অনুষ্ঠান পালিত হতে যাচ্ছে বলে বন বিভাগের একাধিক সুত্রে জানা গেছে এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রনালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয় সারাদেশে একযোগে বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি উদ্ভোধন করবেন বলে জানা যায়।

‎পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশ ব্যাপী বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার হতো যদি সঠিক সময়ে সেটি বাস্তবায়ন করা হতো। দেশের শিক্ষিত/ অশিক্ষিত, শহুরে কিংবা গ্রামের সকল মানুষই জানে বৃষ্টি তথা বছরের মে- জুলাই মাসে গাছের চারা রোপন করতে হয় যাতে চারা গুলো টেকসই হয়ে বৃক্ষে পরিনত হয় এবং দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ বনজ,ফলজ  চাহিদা পুরন হয়। একটি কারিগরি ডিপার্টমেন্ট হয়ে খোদ বন বিভাগের নিয়ন্ত্রনেই শুস্ক মৌসুমে অর্থাৎ  চলতি জানুয়ারি মাসের ২৬ তারিখে বৃক্ষরোপনের এমন কর্মসুচিকে দেশের একাধিক পরিবেশবাদী সংগঠন শুধুমাত্র সরকারি অর্থ অপচয় হিসেবেই দেখছে না বরং এই কর্মসূচিকে তারা ২.৫ লক্ষ ( দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) চারা গাছের নিশ্চিত মৃত্যু হিসেবেই দেখছেন সেই সাথে চারা ক্রয় ও রোপন বাবদ ৫০০০×৫০×৩৬/- =৯০,০০,০০০/-( নব্বই লক্ষ)  টাকার অপচয় হিসেবে দাবী করছেন।

‎মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে আরো চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া যায়। বন বিভাগের বিভিন্ন ডিভিশনের নিয়ন্ত্রণে রেঞ্জ ও বিট পর্যায়ে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপনের এই কর্মসূচিকে  ঘিরে  চলছে অসন্তোষ ও আতংক। মাঠ পর্যায়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলেন, জানুয়ারি মাসে এই কর্মসূচি পালনের জন্য তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে হাস্যরসের পাত্র হচ্ছেন- শুস্ক মৌসুমে বৃক্ষের চারা রোপনের কথা বলায়৷ অন্যদিকে এই মৌসুমে চারা রোপন করলে  তা বাঁচানো সম্ভব হবে না, ফলে ২/১ মাস পরে বন বিভাগের উর্ধতন কতৃপক্ষ পরিদর্শনে গিয়ে চারার অস্তিত্ব না পেলে মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট  কর্মকর্তা / কর্মচারীগনকে সরকারি অর্থ অপচয়ের দায়ে সাসপেন্ড করে তাদের তথাকথিত দায়িত্ব পালনে পিছপা হবেন না বলে বিভিন্ন বিট ও রেঞ্জ সুত্রে জানা যায়। অথচ এই শুস্কমৌসুমে সরাদেশ ব্যাপী ৫০০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫০ টি করে বৃক্ষের চারা রোপণের হঠকারী সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের। তাই বিষয়টি সু বিবেচনা করে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত কল্পে আগামী জুন মাসে চারা রোপনের সময় পুন:নির্ধারনের জন্য  মাননীয় উপদেষ্টা,  পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের মহোদয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে সচেতন মহল।