নব নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৪তম বিসিএস লাইভস্টক ক্যাডার কর্মকর্তাদের ৫ দিনব্যাপী অবহিতকরণ কোর্সের উদ্বোধন
“সবার আগে বাংলাদেশ”—এই দৃঢ় প্রত্যয়ে আজ নব নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৪তম বিসিএস লাইভস্টক ক্যাডার কর্মকর্তাদের ৫ দিনব্যাপী অবহিতকরণ (Orientation) কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিসিএস লাইভস্টক একাডেমি, সাভার ঢাকায় অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“সবার আগে বাংলাদেশ”—এই দৃঢ় প্রত্যয়ে আজ নব নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৪তম বিসিএস লাইভস্টক ক্যাডার কর্মকর্তাদের ৫ দিনব্যাপী অবহিতকরণ (Orientation) কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিসিএস লাইভস্টক একাডেমি, সাভার ঢাকায় অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাণিসম্পদ খাত বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। এ বাস্তবতাকে সামনে রেখে নবীন কর্মকর্তাদের দক্ষ, দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ প্রশাসক হিসেবে গড়ে তুলতেই এ অবহিতকরণ কোর্সের আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়। তিনি তাঁর বক্তব্যে নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের অভিযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে মাঠ পর্যায়ে দক্ষ নেতৃত্ব, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আপনারাই হবেন সেই পরিবর্তনের অগ্রদূত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন প্রাণিসম্পদ খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, রোগ প্রতিরোধ, জিনসম্পদ উন্নয়ন এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এখন সময়ের দাবি। নতুন কর্মকর্তাদের জ্ঞান, সততা ও নিষ্ঠা এ খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডঃ মোঃ আবু সুফিয়ান, মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। তিনি নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যকর সেবা প্রদান, প্রাণিসম্পদ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, টিকাদান কর্মসূচি, কৃত্রিম প্রজনন সেবা এবং খামারিদের সাথে নিবিড় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচি: আসন্ন সময়ে সরকারের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সারাদেশে গবাদিপশুকে ১৮ কোটি ডোজ টিকা প্রয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বৃহৎ টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক) প্রাণীর সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ খ) উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি গ)নিরাপদ প্রাণীজ আমিষ নিশ্চিতকরণ ঘ) খামারিদের আর্থিক সুরক্ষা ঙ)রপ্তানিযোগ্য মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন —এসব লক্ষ্য অর্জন সহজতর হবে। এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে ৪৪তম বিসিএস লাইভস্টক ক্যাডারের নবীন কর্মকর্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁদের উদ্যম, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমই প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করে তুলবে। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তার দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে। নিরাপদ দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদনের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে প্রাণিসম্পদ খাতের ভূমিকা অপরিসীম। আসুন, আমরা সবাই মিলে শপথ নিই সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি। নবীন কর্মকর্তাদের জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। দেশের কল্যাণে, মানুষের সেবায়, উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আপনারা হোন অগ্রদূত।