এলজিইডির নতুন প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ মিয়া

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে যোগদান করলেন মোঃ আব্দুর রশীদ মিয়া।

এলজিইডির নতুন প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ মিয়া

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে যোগদান করলেন মোঃ আব্দুর রশীদ মিয়া। সরকারি চাকুরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী মো. আব্দুর রশীদ মিয়া-কে তাঁর অভোগকৃত অবসর-উত্তর ছুটি ও তৎসংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত এবং অন্য যে কোন পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠন-এর সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ হতে ০১ (এক) বছর মেয়াদে ২৪ মার্চ ২০২৬ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মো. গোলাম রব্বানী উপসচিব স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ মিয়াকে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করেন।

প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশীদ মিয়া ১৯৬৬ সালে ১ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার পাটাগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম জমির উদ্দিন মিয়া এবং মাতার নাম রহিমা বেগম। রশীদ মিয়া ১৯৭১ সালে পাটাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৮১ সালে তারাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫টি বিষয়ে লেটার মার্কসহ বিজ্ঞানে প্রথম বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৮১ সালে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৮৩ সালে ৪টি বিষয়ে লেটার মার্কসহ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৮৭ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব টেকনোলজী (বিআইটি) (বর্তমানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় (রুয়েট), থেকে পুরকৌশলে ¯œাতক এবং ২০১৪ সালে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। যমুনা নদীর ভাঙ্গনে কাজিপুর উপলেজার পাটাগ্রাম-এর বসতবাড়ি নদীতে বিলিন হওয়ার পর ১৯৯২ সাল থেকে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

আব্দুর রশীদ প্রথমে জাপানের একটি বহুজাতিক কোম্পানি মিতসুবিসিতে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজে যোগদান করে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ কর্ম-কমিশন (পিএসসি)-এর মাধ্যমে সরকারি চাকুরিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল ব্যুরো (এলজিইবি) সদর দপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কাজে যোগদান করেন। তিনি ২০০৬ সালে পদোন্নতি পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে এলজিইডি কুষ্টিয়া জেলায় সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সিরাজগঞ্জ জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

৩৬ বছরেরও অধিককালের কর্মজীবনে তিনি সহকারী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসময় তিনি প্রকল্প পরিচালক হিসেবে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিবাস নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে সম্পৃক্ত থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ঢাকায় সফলভাবে সুন্দর আবাস নির্মাণে দক্ষতার পরিচয় দেন।

রাজশাহী বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পদে এলজিইডি সদর দপ্তরে কর্মরত থেকে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরাসরি বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অংশ নেন, তিনি সহকারী প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। আব্দুর রশীদ মিয়া ২০১৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন)-এ দীর্ঘ সময় সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এসময় দায়িত্ব পালনে তিনি অত্যন্ত সাফল্যের সাথে এলজিইডির সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এরপর তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (মানব সম্পদ, পরিবেশ ও জেন্ডার) ইউনিটের দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৩ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পান। তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (মানব সম্পদ উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ ইউনিট)-এ কর্মরত থাকাকালীন সময়ে পিইডিপি-৪ ইউনিটের দায়িত্ব যথাযথভাবে ন্যায় ও নিষ্ঠার সহিত পালন করছেন। তিনি একজন মেধাবী, চৌকস, কর্মঠ, দক্ষ ও সৎ প্রকৌশলী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। চাকুরিতে যোগদানের পর পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন কারিগরি, ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও সরকারি দায়িত্ব্ পালনের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। মোঃ আব্দুর রশীদ মিয়ার সহধর্মিনী ফাতিমা যাকিয়াহ্ একজন আদর্শ সুগৃহিণী। তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।